সান ফ্রান্সিসকোয় দিলজিতের কনসার্টে খলিস্তানি তাণ্ডব, নিরাপত্তা বলয় ভেঙে সোজা মঞ্চে! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
আন্তর্জাতিক মঞ্চে আবারও খলিস্তানি আগ্রাসনের শিকার হলেন জনপ্রিয় পাঞ্জাবি পপস্টার দিলজিৎ দোসাঞ্ঝ। আমেরিকার সান ফ্রান্সিসকোর চেজ সেন্টারে গায়কের ‘অরা ওয়ার্ল্ড ট্যুর’-এর প্রথম শো চলাকালীন এই অনভিপ্রেত ঘটনাটি ঘটে। লাইভ পারফরম্যান্সের মাঝেই আচমকা এক খলিস্তানপন্থী ব্যক্তি নিরাপত্তা বলয় টপকে হাতে পতাকা নিয়ে সোজা মঞ্চে উঠে পড়েন এবং স্লোগান দিতে দিতে গায়কের একেবারে কাছে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এই ঘটনায় কনসার্টে উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ছড়ায় এবং কিছুক্ষণের জন্য শো ব্যাহত হয়। তবে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তৎক্ষণাৎ নিরাপত্তারক্ষী ও পুলিশ প্রশাসন সক্রিয় হয়ে ওঠে। মঞ্চ থেকেই ওই ব্যক্তিকে ধরে কনসার্ট চত্বর থেকে বের করে দেওয়া হয় এবং বর্তমানে সে পুলিশি হেফাজতে রয়েছে।
ক্রমাগত হুমকি ও বিরোধের সূত্রপাত
বিগত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে খলিস্তানপন্থী জঙ্গি গোষ্ঠী ‘শিখস ফর জাস্টিস’ (এসএফজে)-এর নিশানায় রয়েছেন দিলজিৎ দোসাঞ্ঝ। ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল যখন দিলজিৎ বলিউডের মেগাস্টার অমিতাভ বচ্চনের পা ছুঁয়ে প্রণাম করেছিলেন। সেই কারণে এই গায়কের অস্ট্রেলিয়ার কনসার্ট বন্ধের হুমকি দেয় সংশ্লিষ্ট সংগঠনটি। শুধু তাই নয়, বিশ্বজুড়ে তাঁর কনসার্ট বয়কট করার ডাক দিয়ে দিলজিৎকে ‘ভাতে মারার হুমকি’ও দেওয়া হয়। এর আগে গত মে মাসে কানাডার কনসার্টেও খলিস্তানপন্থীরা একই ধরনের তাণ্ডব চালিয়েছিল। তবে উগ্রপন্থীদের এই হুমকির মুখে মাথা নত না করে দিলজিৎ স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে তিনি পাঞ্জাবি এবং এসব হুমকিতে পাত্তা দেন না। বিশেষজ্ঞদের মতে, শিল্পীর এই অনমনীয় ও নির্ভীক মনোভাবের কারণেই তাঁর ওপর খলিস্তানিদের ক্ষোভ চরম আকার ধারণ করেছে।
নিরাপত্তা সংকট ও সম্ভাব্য প্রভাব
সান ফ্রান্সিসকোর এই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হতেই আন্তর্জাতিক স্তরে ভারতীয় তারকাদের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। প্রকাশ্য মঞ্চে কড়া নিরাপত্তা বলয় ভেদ করে একজন উগ্রপন্থীর শিল্পীর একদম কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়াকে বড় ধরনের নিরাপত্তাজনিত ত্রুটি হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনার ফলে আগামী দিনে বিদেশে ভারতীয় ও পাঞ্জাবি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। একই সাথে, আন্তর্জাতিক স্তরে সাংস্কৃতিক সম্প্রীতি নষ্ট করার এই অপচেষ্টা ভারতের বিনোদন জগতের বৈশ্বিক প্রচারণায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
