সাপের স্বর্গরাজ্য এই ১০ দেশ! ভারত কত নম্বরে? চমকে দেবে অস্ট্রেলিয়ার তথ্য – এবেলা

সাপের স্বর্গরাজ্য এই ১০ দেশ! ভারত কত নম্বরে? চমকে দেবে অস্ট্রেলিয়ার তথ্য – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা প্রায় সাড়ে তিন হাজার প্রজাতির সাপের মধ্যে বিষধর হোক বা নির্বিষ—সবেরই নির্দিষ্ট ভৌগোলিক বিচরণক্ষেত্র রয়েছে। সম্প্রতি বিজ্ঞানীদের তৈরি এক বৈশ্বিক সর্প-মানচিত্রে উঠে এসেছে প্রজাতির ভিন্নতা অনুযায়ী সেরা ১০টি দেশের নাম। এই তালিকায় দেখা গেছে, লাতিন আমেরিকা ও দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোতেই সাপের আস্তানা সবচেয়ে বেশি। প্রায় ৬০০ প্রজাতির সাপের বিষ থাকলেও মানুষের জন্য প্রাণঘাতী মাত্র ২০০টি প্রজাতি।

মেক্সিকো ও ব্রাজিলের দাপট

প্রজাতির বৈচিত্র্যের নিরিখে বিশ্বতালিকায় সবার উপরে নাম লিখিয়েছে মেক্সিকো। মরুভূমি থেকে সমুদ্রতট পর্যন্ত বিস্তৃত এই দেশে প্রায় ৪৩৮ প্রজাতির সাপের বাস। এর ঠিক পরেই দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে আমাজনের দেশ ব্রাজিল। প্রায় ৪২০টি প্রজাতির আবাসস্থল এই দেশে অ্যানাকোন্ডা ও বোয়া কনস্ট্রিক্টরের মতো দানবীয় সাপের আধিপত্য দেখা যায়। মূলত আমাজনের গহীন অরণ্যই এসব সরীসৃপের বংশবৃদ্ধির প্রধান ক্ষেত্র হিসেবে কাজ করে।

এশিয়ায় ভারতের অবস্থান ও অস্ট্রেলিয়ার বিস্ময়

এশীয় দেশগুলোর মধ্যে ইন্দোনেশিয়া ৩৭৬টি প্রজাতি নিয়ে বিশ্বে তৃতীয় এবং ভারত ৩০৫টি প্রজাতি নিয়ে চতুর্থ স্থানে অবস্থান করছে। ভারতের হিমালয় থেকে মরুভূমি পর্যন্ত বিস্তৃত ভূখণ্ডে কেউটে, চন্দ্রবোড়া ও শঙ্খচূড়ের মতো বিষধরদের প্রাচুর্য লক্ষ্য করা যায়। তালিকার পরবর্তী স্থানগুলোতে রয়েছে কলম্বিয়া (৩০১), চিন (২৪৬), ইকুয়েডর (২৪১), ভিয়েতনাম (২২৬) এবং মালয়েশিয়া (২১৬)। তবে দশম স্থানে থাকা অস্ট্রেলিয়া (২১৫) প্রজাতির সংখ্যায় পিছিয়ে থাকলেও বিশ্বের সবথেকে ভয়ংকর বিষধর সাপেদের প্রধান স্বর্গরাজ্য হিসেবে পরিচিত।

বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য ও সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তা

প্রকৃতিতে ইঁদুর ও অন্যান্য ক্ষতিকারক ছোট প্রাণীর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রেখে বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাপের ভূমিকা অনস্বীকার্য। বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ুর পরিবর্তন ও বনাঞ্চল ধ্বংসের ফলে সাপেদের স্বাভাবিক বাসস্থান সংকুচিত হচ্ছে, যা মাঝেমধ্যে লোকালয়ে তাদের উপস্থিতির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তবে সঠিক জনসচেতনতা এবং সর্পদংশনের ক্ষেত্রে দ্রুত অ্যান্টি-ভেনাম প্রয়োগই প্রাণহানি রোধের একমাত্র কার্যকর উপায়। অন্যদিকে আয়ারল্যান্ড বা নিউজিল্যান্ডের মতো দেশগুলো ভৌগোলিক কারণে আজও সম্পূর্ণ সর্পহীন ভূখণ্ড হিসেবে টিকে রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *