সাবধান! আপনার কি দুটি গ্যাস কানেকশন আছে? আজ থেকেই বদলে গেল নিয়ম, না মানলে বড় বিপদ!

সারা দেশে রান্নার গ্যাস (এলপিজি) সরবরাহ ব্যবস্থা সুশৃঙ্খল করতে এবং ভর্তুকির অপব্যবহার রোধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। পহেলা মে থেকে কার্যকর হওয়া নতুন নিয়ম অনুযায়ী, একই পরিবারে পাইপলাইন গ্যাস (পিএনজি) এবং এলপিজি সিলিন্ডার—উভয় সংযোগ রাখা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় নেওয়া এই নির্দেশনায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, যাদের বাড়িতে পিএনজি সংযোগ রয়েছে, তাদের অবশ্যই এলপিজি সংযোগটি সমর্পণ করতে হবে। তেল সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন এমন গ্রাহকদের জন্য নতুন সিলিন্ডার বুকিং বা রিফিল সুবিধা আর না দেওয়া হয়।
সিলিন্ডার বুকিং ও ডেলিভারিতে কড়াকড়ি
গ্যাস সিলিন্ডার বুকিংয়ের ক্ষেত্রেও সময়ের ব্যবধানে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন থেকে শহরাঞ্চলের গ্রাহকরা একটি সিলিন্ডার নেওয়ার ২৫ দিন পর পরবর্তী সিলিন্ডার বুক করতে পারবেন, যা আগে ছিল ২১ দিন। অন্যদিকে, গ্রামীণ এলাকার গ্রাহকদের জন্য এই সময়সীমা বাড়িয়ে ৪৫ দিন করা হয়েছে। এছাড়া সিলিন্ডার ডেলিভারির সময় নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরে আসা ওটিপি (OTP) প্রদান এবং কেওয়াইসি (KYC) আপডেট করা এখন থেকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
বাণিজ্যিক গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি ও কারণ
গৃহস্থালির গ্যাসের দাম অপরিবর্তিত থাকলেও বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের ক্ষেত্রে বড় ধাক্কা এসেছে। ২০২৬ সালের মার্চ থেকে এ নিয়ে চতুর্থবারের মতো ১৯ কেজির বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম বাড়ানো হলো, যার ফলে মোট দাম বেড়েছে প্রায় ৯৯৩ টাকা। পশ্চিম এশিয়ায় চলমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেল ও গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তবে সাধারণ মানুষের স্বস্তি বজায় রাখতে ১৪.২ কেজির গৃহস্থালি সিলিন্ডার এবং পেট্রোল-ডিজেলের দাম আপাতত স্থিতিশীল রেখেছে সরকার।
এক ঝলকে
আন্তর্জাতিক সংকটের কারণে বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম বাড়লেও গৃহস্থালি গ্যাসের দাম অপরিবর্তিত।
একই বাড়িতে এলপিজি এবং পিএনজি সংযোগ রাখা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
পরবর্তী সিলিন্ডার বুকিংয়ের জন্য শহরে ২৫ দিন এবং গ্রামে ৪৫ দিন অপেক্ষা করতে হবে।
সিলিন্ডার গ্রহণ করতে ওটিপি (OTP) এবং কেওয়াইসি যাচাইকরণ বাধ্যতামূলক।
