সাবধান! দীর্ঘ সময় কীটনাশকের সংস্পর্শে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ছে ১৫০ শতাংশ, চাঞ্চল্যকর তথ্য নতুন গবেষণায়

সাবধান! দীর্ঘ সময় কীটনাশকের সংস্পর্শে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ছে ১৫০ শতাংশ, চাঞ্চল্যকর তথ্য নতুন গবেষণায়

কৃষিকাজে ব্যবহৃত বিষাক্ত কীটনাশকের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব নিয়ে সম্প্রতি একটি চাঞ্চল্যকর গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। ‘জার্নাল নেচার হেলথ’-এ প্রকাশিত এই গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, কীটনাশকের সংস্পর্শে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে ক্যান্সারের ঝুঁকি প্রায় ১৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। ফ্রান্স ও পেরুর একদল বিজ্ঞানী যৌথভাবে এই গবেষণাটি চালিয়েছেন যেখানে পরিবেশগত তথ্য এবং কয়েক লক্ষ ক্যান্সার রোগীর স্বাস্থ্য নথি বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

অদৃশ্য মরণফাঁদ ও শারীরিক প্রভাব
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, কৃষিপ্রধান অঞ্চলের বাসিন্দারা সাধারণত একক কোনো রাসায়নিক নয়, বরং গড়ে প্রায় ১২টি ভিন্ন ভিন্ন কীটনাশকের মিশ্রণের সংস্পর্শে আসেন। বিজ্ঞানীদের মতে, এই রাসায়নিকগুলো মানবদেহের কোষের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা ধীরে ধীরে নষ্ট করে দেয়। বিশেষ করে যকৃতের ওপর এর প্রভাব সবথেকে বেশি পড়ে, কারণ শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ নিষ্কাশনের প্রধান কাজটি যকৃতই করে থাকে। দীর্ঘ সময় ধরে কোনো দৃশ্যমান লক্ষণ ছাড়াই এই বিষক্রিয়া শরীরে দানা বাঁধতে থাকে।

নিরাপত্তা নীতিমালা নিয়ে সংশয়
বর্তমান গবেষণায় দেখা গেছে, জলবায়ু পরিবর্তন বা এল নিনোর মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ কীটনাশকের ব্যবহার ও ছড়িয়ে পড়ার মাত্রাকে আরও বাড়িয়ে দেয়। প্রচলিত স্বাস্থ্য সুরক্ষা নীতিমালাগুলো মূলত একটি নির্দিষ্ট রাসায়নিকের সহনশীল মাত্রা বিচার করে তৈরি করা হয়। কিন্তু বাস্তবে মানুষ যখন একসাথে অনেকগুলো রাসায়নিকের সম্মুখীন হয়, তখন বর্তমান সুরক্ষা বিধিগুলো অকার্যকর হয়ে পড়ছে বলে গবেষকরা মনে করেন। এই আবিষ্কার বিশ্বব্যাপী কৃষি নীতি ও জনস্বাস্থ্য পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনার দাবি রাখছে।

এক ঝলকে

  • অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের ফলে ক্যান্সারের ঝুঁকি গড়ে ১৫০% পর্যন্ত বাড়তে পারে।
  • মানুষ সাধারণত এক সাথে গড়ে ১২টি ভিন্ন কীটনাশকের মিশ্র প্রভাবের শিকার হয়।
  • ফ্রান্স ও পেরুর বিজ্ঞানীদের এই যৌথ গবেষণাটি ‘জার্নাল নেচার হেলথ’-এ প্রকাশিত হয়েছে।
  • কীটনাশকের বিষক্রিয়া কোষের কার্যকারিতা নষ্ট করে যকৃতের মারাত্মক ক্ষতি করছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *