সায়নীরাও ভোল বদলালে ভরসা কোথায়, মহুয়ার বিস্ফোরক মন্তব্যে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতা হারানোর পর থেকেই চরম সঙ্কটের মুখে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। একে একে বিধায়ক ও সাংসদদের দলত্যাগের হিড়িকে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে জোর চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং ভাঙন নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। তিনি দলত্যাগীদের লোভ ও কেন্দ্রীয় এজেন্সির ভয়ের রাজনীতির কড়া সমালোচনা করার পাশাপাশি সতীর্থদের দলবদল নিয়েও তীব্র হতাশা প্রকাশ করেছেন।
দলবদল ও এজেন্সির জুজু
সাক্ষাৎকারে মহুয়া মৈত্র স্পষ্ট জানিয়েছেন, রাজ্যের পালাবদলের পর দলের এই আকস্মিক পতনের পেছনে রয়েছে সীমাহীন লোভ এবং বিশ্বাসঘাতকতা। তাঁর অভিযোগ, লোকসভায় একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেয়ে বিজেপি মরিয়া হয়ে উঠেছে এবং কেন্দ্রীয় এজেন্সি ও হুমকির রাজনীতি প্রয়োগ করে বিধায়কদের দলত্যাগে বাধ্য করছে। তৃণমূলকে একঘরে করার চক্রান্ত হিসেবে এই দলবদল ঘটানো হলেও, তিনি মনে করিয়ে দেন যে দল মানেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং আসল শক্তি দিদির ক্যারিশমাতেই নিহিত। বিদ্রোহী বিধায়কদের উদ্দেশ্যে তিনি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বলেন, যদি মতাদর্শগত বিরোধ এতই থাকে, তবে তারা পদত্যাগ করে মধ্যপ্রদেশের কংগ্রেস বিধায়কদের মতো উপনির্বাচনে নতুন করে জিতে আসুক।
সায়নীকে নিয়ে বেদনা ও ভবিষ্যৎ লড়াই
দলের তরুণ প্রজন্মের নেতা সায়নী ঘোষের দলবদলের জল্পনা নিয়ে সবচেয়ে বেশি আবেগঘন সুর শোনা গেছে মহুয়ার কণ্ঠে। নিজের সন্তানের মতো স্নেহ করা সায়নীকে মাত্র পাঁচ বছরে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদ ও যাদবপুরের মতো মর্যাদাপূর্ণ আসন দেওয়া সত্ত্বেও তাঁর এই সম্ভাব্য ভোলবদল অত্যন্ত বেদনাদায়ক বলে উল্লেখ করেন তিনি। মহুয়ার মতে, লোভের কারণে নয়, বরং প্রবল চাপ ও ভয়ের কারণেই হয়তো সায়নী এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই দলত্যাগের ফলে সাময়িকভাবে তৃণমূলের সাংগঠনিক ভিত্তি ও মনোবল ধাক্কা খেলেও, অস্তিত্ব রক্ষার এই লড়াইয়ে সমস্ত তিক্ততা ভুলে ঐক্যবদ্ধ থাকার বার্তা দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি, ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি সরকারের ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ‘ইন্ডিয়া’ জোটবদ্ধভাবেই লড়াই করবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
