সালোয়ার খোলা বা বুকে হাত দেওয়া মানেই ‘ধর্ষণে*র চেষ্টা’ নয়: পাটনা হাইকোর্ট – এবেলা

সালোয়ার খোলা বা বুকে হাত দেওয়া মানেই ‘ধর্ষণে*র চেষ্টা’ নয়: পাটনা হাইকোর্ট – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

মহিলার সালোয়ার খোলার চেষ্টা করা বা বুকে হাত দেওয়া মানেই তা ‘ধর্ষণের চেষ্টা’ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে না। ধর্ষণের চেষ্টা প্রমাণ করতে হলে অনুপ্রবেশ (penetration) বা এমন কোনও সুনির্দিষ্ট প্রমাণের প্রয়োজন, যা স্পষ্টভাবে ধর্ষণের চেষ্টাকেই নির্দেশ করে। বিহারের একটি পুরনো মামলার শুনানিতে এমনই তাৎপর্যপূর্ণ রায় দিল পাটনা হাইকোর্ট।

ঘটনার প্রেক্ষাপট

২০০৮ সালের ১৯ জানুয়ারি বিহারের বাঁকা জেলার অমরপুরে এক তরুণী তাঁর বাবার সঙ্গে একটি স্টুডিওতে ছবি তুলতে যান। অভিযোগ, স্টুডিওর মালিক ওই তরুণীর বাবাকে বাইরে অপেক্ষা করতে বলে ঘরের দরজা বন্ধ করে দেন। এরপর তিনি তরুণীর সালোয়ার খোলার চেষ্টা করেন এবং তাঁর বুকে হাত দেন। তরুণীর চিৎকারে তাঁর বাবা ছুটে এলে অভিযুক্ত পালিয়ে যায়।

এই ঘটনায় নিম্ন আদালত অভিযুক্তকে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৬/৫১১ (ধর্ষণের চেষ্টা) এবং ৩৪২ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়।

হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ ও রায়

নিম্ন আদালতের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে পাটনা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন অভিযুক্ত। মামলার সাক্ষ্যপ্রমাণ পুনর্বিবেচনা করে বিচারপতি পূর্ণেন্দু সিংয়ের বেঞ্চ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরে:

  • প্রমাণের অভাব: তদন্তকারী অফিসার আদালতে কোনও সাক্ষ্য দেননি এবং কোনও মেডিক্যাল রিপোর্টও পেশ করা হয়নি।
  • ধর্ষণের চেষ্টার ভিত্তি নেই: ধর্ষণের চেষ্টার মূল ভিত্তি অর্থাৎ ‘অনুপ্রবেশের’ সামান্যতম প্রমাণ বা এমন কোনও স্পষ্ট পদক্ষেপের প্রমাণ মেলেনি যা ধর্ষণের চেষ্টাকে নিশ্চিত করে।
  • শ্লীলতাহানি বনাম ধর্ষণের চেষ্টা: আদালত স্পষ্ট জানায়, অভিযোগ সত্যি হলেও অভিযুক্তের এই কাজ শ্লীলতাহানির (IPC ৩৫৪ ধারা) আওতায় পড়তে পারে, কিন্তু তা কোনওভাবেই ‘ধর্ষণের চেষ্টা’ (IPC ৩৭৬/৫১১) নয়।

পর্যাপ্ত আইনি উপাদানের অভাবে পাটনা হাইকোর্ট নিম্ন আদালতের রায় বাতিল করে এবং অভিযুক্তকে সমস্ত অভিযোগ থেকে বেকসুর খালাস দেয়। পাশাপাশি, তাঁর জরিমানার অর্থও ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *