সিনেমার গল্পকেও হার মানাবে! অন্যের পরিচয়ে ৪০ বছর সরকারি চাকরি, অবসরের পর ফাঁস ‘খিলাড়ি’র কীর্তি! – এবেলা

সিনেমার গল্পকেও হার মানাবে! অন্যের পরিচয়ে ৪০ বছর সরকারি চাকরি, অবসরের পর ফাঁস ‘খিলাড়ি’র কীর্তি! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

সিনেমার গল্পে প্রায়শই দেখা যায় অন্যের পরিচয় চুরি করে বা মৃত ব্যক্তির সার্টিফিকেট ব্যবহার করে কেউ নতুন জীবন শুরু করছে। কিন্তু কর্ণাটকের বেঙ্গালুরুতে ঘটে যাওয়া এক অবিশ্বাস্য ঘটনা রূপালী পর্দার সেই কাল্পনিক গল্পকেও হার মানিয়েছে। অন্যের হারিয়ে যাওয়া শিক্ষাগত যোগ্যতার শংসাপত্র (সার্টিফিকেট) কুড়িয়ে পেয়ে, নিজের পরিচয় গোপন করে দীর্ঘ ৪০ বছর সরকারি চাকরি করার এক নজিরবিহীন ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। দীর্ঘ চার দশক পর এই বিশাল প্রতারণার ঘটনাটি ফাঁস হতেই নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন, মামলা গড়িয়েছে পুলিশ স্টেশন পর্যন্ত।

হারানো সার্টিফিকেট ও পরিচয়ের অদলবদল

ঘটনার সূত্রপাত ১৯৮২ সালে। কর্ণাটকের মাণ্ড্য জেলার বাসিন্দা এম. রাচাইয়া নামের এক যুবক শিবমোগায় বিদ্যুৎ পর্ষদের ‘গ্যাংম্যান’ পদের ইন্টারভিউ দিতে যান। তবে কোনো কারণে সেদিনের ইন্টারভিউ বাতিল হয়ে যাওয়ায় হতাশ হয়ে ফেরার পথে রাচাইয়া তাঁর আসল সার্টিফিকেট ও মার্কশিট সেখানে ফেলে আসেন। সেই ইন্টারভিউতেই আসা হাসন জেলার বোম্মেগৌড়া নামের অন্য এক যুবকের হাতে পড়ে ওই নথিপত্র। সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে বোম্মেগৌড়া নিজের নাম বদলে ‘রাচাইয়া’ সেজে সেই সার্টিফিকেট দিয়ে সরকারি চাকরিটি বাগিয়ে নেন।

চাকরি জীবন ও অবিশ্বাস্য মোড়

আসল রাচাইয়া যখন জীবিকার তাগিদে দিনমজুরের কাজ করে দিন কাটাচ্ছিলেন, তখন ভুয়ো রাচাইয়া ওরফে বোম্মেগৌড়া বেঙ্গালুরু বিদ্যুৎ সরবরাহ সংস্থায় (BESCOM) দাপটের সঙ্গে চাকরি ও নিয়মিত পদোন্নতি উপভোগ করছিলেন। ২০০৩ সালে ঘটনাটি আরও নাটকীয় মোড় নেয়, যখন বোম্মেগৌড়া আইনি হলফনামার মাধ্যমে বিভাগীয় নজর এড়িয়ে চতুরতার সঙ্গে নথিপত্রে নিজের নাম পুনরায় ‘বোম্মেগৌড়া’তে পরিবর্তিত করে নেন। ২০১৯ সালে আসল রাচাইয়া এই প্রতারণার কথা জানতে পারলে বোম্মেগৌড়া তাঁকে মুখ বন্ধ রাখার জন্য বার্ষিক মোটা অঙ্কের টাকা দেওয়ার চুক্তি করেন। এমনকি ২০২২ সালে অবসরের পর মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে আসল রাচাইয়াকে ১০ লক্ষ টাকাও দেওয়া হয়।

লোভের পরিণতি ও আইনি ব্যবস্থা

টাকা পাওয়ার পরও আসল রাচাইয়া বোম্মেগৌড়ার মাসিক পেনশনের অর্ধেক দাবি করলে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চরমে পৌঁছায়। পেনশনের টাকা দিতে অস্বীকার করায় ক্ষুব্ধ আসল রাচাইয়া বিদ্যুৎ সংস্থার ভিজিল্যান্স বিভাগে অভিযোগ দায়ের করেন। অভ্যন্তরীণ তদন্তে জালিয়াতির সত্যতা প্রমাণিত হওয়ার পর বেঙ্গালুরুর রাজাজিনগর থানা পুলিশ মূল অভিযুক্ত বোম্মেগৌড়া, সত্য গোপন রাখা আসল রাচাইয়া এবং অর্থের লেনদেনে সহায়তাকারী মধ্যস্থতাকারীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করেছে। এই ঘটনার ফলে সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়ার নিরাপত্তা এবং নথিপত্র যাচাইকরণের দুর্বলতা মারাত্মকভাবে সামনে এসেছে।

এক ঝলকে

  • ১৯৮২ সালে ইন্টারভিউয়ের স্থান থেকে হারিয়ে যাওয়া সার্টিফিকেটের ভিত্তিতে বোম্মেগৌড়া নামের এক ব্যক্তি ‘রাচাইয়া’ সেজে সরকারি চাকরি পান।
  • ভুয়ো পরিচয় ব্যবহার করে অভিযুক্ত ব্যক্তি বেঙ্গালুরু বিদ্যুৎ সরবরাহ সংস্থায় (BESCOM) দীর্ঘ ৪০ বছর চাকরি করে ২০২২ সালে অবসর নেন।
  • ২০১৯ সালে সত্য জানার পর আসল রাচাইয়াকে মুখ বন্ধ রাখতে ১০ লক্ষ টাকা দেওয়া হলেও পরবর্তীতে পেনশনের ভাগ নিয়ে বিবাদ শুরু হয়।
  • পেনশনের ভাগ না পেয়ে আসল ব্যক্তি অভিযোগ জানালে তদন্তের পর পুলিশ মূল অভিযুক্তসহ তিনজনের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক মামলা করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *