সীমান্ত ঘেঁষে জামাতের নীরব শক্তিবৃদ্ধি—অজান্তেই কি বড় বিপদের দিকে হাঁটছে দেশ?
বাংলাদেশের নির্বাচনী ফলাফলে বিএনপির বিপুল জয়ে ভারত সরকার স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেও, সীমান্ত সংলগ্ন এলাকাগুলোতে জামায়াতে ইসলামীর অভাবনীয় উত্থান দিল্লির নীতিনির্ধারকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। বিশেষ করে খুলনা, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের সীমান্তবর্তী আসনগুলোতে জামায়াতের আধিপত্য বৃদ্ধি পেয়েছে। দীর্ঘ ১৭ বছর আওয়ামী লীগের ছত্রছায়ায় থাকা জাতীয় পার্টির পতনের ফলে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক শূন্যতা কাজে লাগিয়ে জামায়াত এই অঞ্চলে শক্তিশালী অবস্থানে উঠে এসেছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জামায়াত তাদের অতীতের রেকর্ড ভেঙে এবার প্রায় ৩২ শতাংশ ভোট পেয়েছে, যা ১৯৯১ সালের তুলনায় আড়াই গুণেরও বেশি। এমনকি ঢাকার মতো বিভাগেও তারা প্রথমবারের মতো উল্লেখযোগ্য আসন লাভ করেছে। বিএনপির ভোট ব্যাংক বাড়লেও জামায়াতের এই কাঠামোগত বিস্তারকে ভারত ভবিষ্যতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে। বিশেষ করে উগ্রপন্থার প্রসারের সম্ভাবনা ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার ক্ষেত্রে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সামনে এখন মূল চ্যালেঞ্জ হলো ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধার এবং কট্টরপন্থী শক্তির প্রভাব মোকাবিলা করা। ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রেখে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা তাঁর সরকারের জন্য অগ্নিপরীক্ষা। বিএনপি জনআকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থ হলে সেই সুযোগে জামায়াত আরও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে। ফলে বাংলাদেশের এই রাজনৈতিক পালাবদল সীমান্তের ওপারে ভারতের জন্য এক জটিল ও সতর্ক সমীকরণ তৈরি করেছে।

