সুখেন্দুর পথেই কি আরও তিন সাংসদ! তৃণমূলের অন্দরে দিল্লির ঝড়ে কাঁপছে ঘাসফুল – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
সুখেন্দুশেখর রায়ের ইস্তফাকে কেন্দ্র করে সোমবার যে অস্থিরতার সূত্রপাত হয়েছিল, মঙ্গলবার তা যেন আরও ঘনীভূত হয়েছে। লোকসভায় বড়সড় ভাঙনের আশঙ্কার পাশাপাশি, এবার রাজ্যসভাতেও তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে বিদ্রোহের আঁচ স্পষ্ট। দিল্লির সংসদীয় অলিন্দে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে, ঘাসফুল শিবিরের সাংসদদের একাংশ এনডিএ ব্লকের দিকে পা বাড়াতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন।
সোমবার দিনভর নাটকীয় পরিস্থিতির সাক্ষী থেকেছে দিল্লি। সুখেন্দুশেখর রায়ের ইস্তফার পরই খবর মেলে, কাকলি ঘোষদস্তিদার-সহ প্রায় ২০ জন লোকসভা সাংসদ এনডিএ শিবিরে যোগ দেওয়ার ইচ্ছাপ্রকাশ করে স্পিকারকে চিঠি দিয়েছেন। একই সঙ্গে শতাব্দী রায়ের বাসভবনে ‘বিদ্রোহী’ সাংসদদের বৈঠক এবং সেখানে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতি রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন ফেলে দিয়েছে।
রাজ্যসভাতেও কি বড়সড় ভাঙন
এই ঝড়ের রেশ শুধু লোকসভাতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। খবর, সোমবার গভীর রাতে বিজেপির এক হেভিওয়েট নেতার সঙ্গে দিল্লির কোনো এক গোপন ডেরায় বৈঠক করেছেন রাজ্যসভার তিন তৃণমূল সাংসদ। ফলে, উচ্চকক্ষেও দলের বর্তমান ১২ জন সাংসদের মধ্যে থেকে আরও সংখ্যা কমে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই তালিকার পাশাপাশি বহরমপুরের সাংসদ ইউসুফ পাঠানের নাম নিয়েও শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা। তারকা সাংসদ ইউসুফ শেষ পর্যন্ত ইস্তফার পথে হাঁটবেন কি না, তা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা চলছে।
পালটা সুর তৃণমূল শিবিরে
একদিকে যখন দল ভাঙার খবর জোরালো হচ্ছে, তখন পাল্টা প্রস্তুতি শুরু করেছে তৃণমূল। মঙ্গলবার দিল্লি থেকে সাংবাদিক বৈঠক করেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও কীর্তি আজাদ। দলের আদর্শ তুলে ধরে তাঁরা দাবি করেছেন, টাকা, এজেন্সি বা ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে তৃণমূলের মাটি কামড়ে পড়ে থাকা সৈনিকদের মনোবল ভাঙা সম্ভব নয়। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই সংকট কেবলই সংসদীয় নয়, বরং দলের অন্দরের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ, যা আগামী দিনে তৃণমূলের রাজনৈতিক সমীকরণে বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
