সুপ্রিম কোর্টে ধাক্কা কমিশনের? ‘পিছু হটতে হল সিইসি জ্ঞানেশ কুমারক’, দাবি তৃণমূলের

ভোটগণনার ঠিক আগের দিন আইনি লড়াইয়ে বড়সড় সাফল্যের দাবি করল তৃণমূল কংগ্রেস। গণনাকর্মী নিয়োগ সংক্রান্ত মামলায় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর কড়া ভাষায় বিবৃতি জারি করল বাংলার শাসকদল। তৃণমূলের দাবি, গণনাকেন্দ্রে কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন যে একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়ার পথে হাঁটছিল, শীর্ষ আদালতের হস্তক্ষেপে তাতে রাশ টানা গিয়েছে। তৃণমূলের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে সাফ জানানো হয়েছে—আদালতে শেষ পর্যন্ত পিছু হটতে হল মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারকে।
আদালতের পর্যবেক্ষণ ও তৃণমূলের অবস্থান
শনিবার সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, ভোটগণনার সময় নিয়ম মেনেই কেন্দ্র এবং রাজ্য—উভয় সরকারের কর্মচারীদেরই নিয়োগ করতে হবে নির্বাচন কমিশনকে। তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই মামলার তদারকি করছিলেন প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বাল। আদালতের এই নির্দেশকে নিজেদের ‘নৈতিক জয়’ হিসেবে দেখছে ঘাসফুল শিবির। তৃণমূলের দাবি, কমিশন যে বিশেষ বিজ্ঞপ্তি জারি করে গণনাকর্মী নিয়োগের পুরনো ভারসাম্য নষ্ট করতে চেয়েছিল, শীর্ষ আদালত তাতে হস্তক্ষেপ করে স্বচ্ছতা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছে।
তৃণমূলের আক্রমণাত্মক বিবৃতি
আদালতের রায়ের পর তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে একটি প্রেস বিবৃতি জারি করা হয়। সেখানে সরাসরি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে নিশানা করে বলা হয়েছে, নিরপেক্ষতা বজায় রাখার স্বার্থে এবং তৃণমূলের যুক্তির কাছে কমিশনকে পিছু হটতে বাধ্য করেছে সুপ্রিম কোর্ট। তৃণমূলের অভিযোগ ছিল, কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের আধিক্য ঘটিয়ে গণনায় বিশেষ পক্ষপাতিত্ব করার পরিকল্পনা ছিল কমিশনের একটি অংশের। কিন্তু আদালতের নির্দেশে সেই ‘ছক’ বানচাল হয়ে গিয়েছে বলে দাবি শাসকদলের।
কমিশনের নীরবতা ও ৪ মে-র প্রস্তুতি
তৃণমূলের এই কড়া আক্রমণ এবং সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে যথেষ্ট তোলপাড় শুরু হলেও, এখনও পর্যন্ত কমিশনের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বাধীন কমিশন আপাতত আদালতের নির্দেশিকা মেনেই আগামীকাল ৪ মে-র গণনার প্রস্তুতি চূড়ান্ত করতে ব্যস্ত।
রাজনৈতিক মহলের মতে, গণনার ঠিক ২৪ ঘণ্টা আগে সুপ্রিম কোর্টের এই পর্যবেক্ষণ তৃণমূলের এজেন্টদের জন্য বাড়তি অক্সিজেন জোগাবে। ইভিএমের টেবিলে কেন্দ্র ও রাজ্য উভয় সরকারের কর্মীদের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়ার ফলে কারচুপির আশঙ্কা অনেকটাই কমবে বলে মনে করছে ঘাসফুল শিবির। এখন দেখার, আগামীকাল গণনাকেন্দ্রে এই নতুন নির্দেশিকা পালনে কমিশন কতটা সক্রিয় থাকে।
প্রতিবেদক: স্বাধীন মানব দাস।
