সুপ্রিম কোর্টে বড় জয় নবান্নের! বাতিল ৯০০ ‘অবৈধ’ মাদ্রাসা কর্মীর নিয়োগ, শুরু এফআইআর-এর তোড়জোড় – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
কলকাতা: নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে রাজ্যজুড়ে তোলপাড়ের মাঝে এবার মাদ্রাসা শিক্ষা ক্ষেত্রে এক বড়সড় আইনি জয় পেল নবান্ন। রাজ্যের সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত মাদ্রাসাগুলিতে গত ১৫ বছরে হওয়া প্রায় ৯০০-র বেশি বিতর্কিত নিয়োগের বৈধতা চেয়ে করা সমস্ত আবেদন খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি দেবীপ্রসাদ দে-র নেতৃত্বাধীন কমিটির রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই শীর্ষ আদালত এই কড়া সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
কেন এই নিয়োগ বাতিল? ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে সুপ্রিম কোর্ট বিচারপতি দেবীপ্রসাদ দে-র নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করে। সেই কমিটির তদন্তে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য:
- বিজ্ঞাপনহীন নিয়োগ: কোনো সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন না দিয়েই পছন্দের প্রার্থীদের নিয়োগ করা হয়েছিল।
- শূন্যপদ ছাড়াই নিয়োগ: সরকারি নিয়ম মেনে কোনো শূন্যপদ না থাকা সত্ত্বেও নিয়োগপত্র বিলি করা হয়েছে।
- অনিয়ম: নিয়োগের জন্য কোনো বৈধ সিলেকশন কমিটি ছিল না এবং বেশিরভাগ কর্মীর কোনো যোগ্যতার প্রমাণপত্রও পাওয়া যায়নি।
১৫ বছরের আইনি জটিলতা: বাম আমলে পাস হওয়া ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন অ্যাক্ট’ নিয়ে দীর্ঘ দেড় দশক ধরে আইনি লড়াই চলে। আদালত অতীতে এই আইনকে বৈধ ঘোষণা করলেও, দুই আদালতের রায়ের মধ্যবর্তী সময়ে হওয়া অ্যাডহক নিয়োগগুলির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সেই সূত্রেই ৯০০ জনের বেশি কর্মী নিজেদের চাকরির স্থায়ীকরণের দাবিতে সরব হন। কিন্তু আদালতের রায়ে তাদের সেই দাবি খারিজ হয়ে গেল।
এবার এফআইআর-এর প্রস্তুতি: সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের ফলে সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতার ওপর জোর দিল আদালত। সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দফতরের দাবি, যে সমস্ত ক্ষেত্রে গুরুতর জালিয়াতির প্রমাণ মিলেছে, সেখানে ইতিমধ্যেই থানায় এফআইআর দায়ের করার আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
এই রায়ের ফলে রাজ্যের রাজকোষ থেকে অনৈতিক খরচের চাপ কমবে বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল। পাশাপাশি, সংখ্যালঘু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হলেও সরকারি অনুদান নিতে গেলে যে নিয়ম ভাঙার কোনো সুযোগ নেই, এই রায় তা স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দিল।
