সোনার দামে বড় লাফ! ১০ গ্রামে ২ লক্ষের হাতছানি, আমদানির বোঝা কমাতে কী করণীয়?

সোনার দামে বড় লাফ! ১০ গ্রামে ২ লক্ষের হাতছানি, আমদানির বোঝা কমাতে কী করণীয়?

নিজস্ব প্রতিবেদন: ভারতের সাধারণ মানুষের কাছে সোনার আকর্ষণ চিরন্তন। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে এই হলদে ধাতুর দাম যে হারে চড়ছে, তা সাধারণ গৃহস্থের সাধ্যের বাইরে চলে যাচ্ছে। বাজার বিশ্লেষকদের সাম্প্রতিক পূর্বাভাস বলছে, খুব শীঘ্রই প্রতি ১০ গ্রাম সোনার দাম ২ লক্ষ টাকার ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করতে চলেছে।

কেন সোনার দাম আকাশছোঁয়া?

সোনার চাহিদা ও দামের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার পেছনে রয়েছে একাধিক কারণ:

  • আমদানির ওপর নির্ভরশীলতা: ভারতের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে দেশ মূলত আমদানির ওপরই ভরসা করে। এটি দেশের মুদ্রার মান ও চলতি হিসাবের ঘাটতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
  • অব্যাহত চাহিদা: দাম যতই বাড়ুক, উৎসব ও বিয়ের মরসুমে ভারতীয়দের সোনা কেনার আগ্রহে ভাটা পড়েনি। বর্তমানে দেশে আনুমানিক ৩২,০০০ টন সোনা মানুষের লকারে অলস পড়ে রয়েছে, যা অর্থনীতির জন্য একটি বিশাল সম্পদ।

বিশেষজ্ঞদের ভবিষ্যৎবাণী:

বাজার বিশ্লেষক এবং এসএস ওয়েলথস্ট্রিটের ফাউন্ডার সুগন্ধা সচদেবার মতে, বর্তমান প্রবণতা বজায় থাকলে আগামী দুই বছরের মধ্যেই সোনার দাম ১০ গ্রামে ২ লক্ষ টাকার গণ্ডি ছুঁতে পারে। আগামী পাঁচ বছরে এই দাম দ্বিগুণ হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

আমদানি কমাতে কী পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা?

দেশের অর্থনীতিবিদ ও জুয়েলারি শিল্পের সাথে যুক্ত কর্তারা আমদানির চাপ কমাতে ও অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন:

১. শূন্য আমদানি শুল্কের পক্ষে মত: মেহরাসন্স জুয়েলার্সের এমডি অজয় মেহরা মনে করেন, আমদানি শুল্ক বাড়িয়ে চাহিদা কমানো সম্ভব নয়। বরং এতে আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতীয় গহনা শিল্পের প্রতিযোগিতার ক্ষমতা কমে যায়। তাই তিনি আমদানি শুল্ক শূন্য করার পক্ষে সওয়াল করেছেন।

২. রিসাইক্লিং বা পুনর্ব্যবহার: মুথুট এক্সিমের সিইও কেয়ুর শাহ-এর মতে, মানুষের ঘরে পড়ে থাকা সোনা বাজারে ফিরিয়ে আনা জরুরি। বর্তমানে ৩ শতাংশ জিএসটি ও বিক্রয় কর সাধারণ মানুষকে পুরনো সোনা পুনর্ব্যবহার করার ক্ষেত্রে নিরুৎসাহিত করে। এই কর কাঠামো সহজ করলে আমদানির ওপর নির্ভরতা অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

সোনার দামের এই পাগলা ঘোড়া কি আদৌ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব? নাকি মুদ্রাস্ফীতির সাথে তাল মিলিয়ে সোনা বিনিয়োগের সবচেয়ে নিরাপদ ও লাভজনক পথ হয়েই থাকবে—সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *