স্করপিও চড়ে ভবানীপুরে বিলি হচ্ছে কয়েকশো কোটি টাকা! কালীঘাটের সভা থেকে বিস্ফোরক মমতা

কালীঘাটের এক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সভায় ভবানীপুর কেন্দ্রকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, ওড়িশা সীমান্ত দিয়ে লোক ঢুকিয়ে কলকাতায় প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এমনকি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকদের বদল নিয়েও তিনি নিজের অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি অভিযোগ করেছেন যে, একটি কালো স্করপিও গাড়িতে করে কয়েকশো কোটি টাকা ভবানীপুরে আনা হয়েছে এবং চেতলার নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় সেই অর্থ বিলি করা হয়েছে।
বিস্ফোরক অভিযোগ ও পাল্টা কৌশল
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি অনুযায়ী, বহিরাগত শক্তির মদতে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ ভোটারদের প্রভাবিত করার জন্য ডিস্ট্রিবিউশন করা হচ্ছে। তবে তিনি আত্মবিশ্বাসের সুরে জানান, সাধারণ মানুষ এই প্রলোভনে পা দিচ্ছেন না। অনেকেই নাকি তাঁকে জানিয়েছেন যে তারা টাকা নিলেও ভোট দেবেন না। নন্দীগ্রামের ভোটপ্রক্রিয়ার সাথে কলকাতার ভোটের তুলনা টেনে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, ভবানীপুরে ভোট লুট করা সম্ভব হবে না।
রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনিক গুরুত্ব
নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানের এই অভিযোগ রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এই অর্থ লেনদেনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা নির্বাচনী স্বচ্ছতার ওপর বড় প্রশ্নচিহ্ন দাঁড় করাবে। অন্যদিকে, পুলিশ ও প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ আধিকারিকদের রদবদল নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে স্নায়ুযুদ্ধ চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। এই পরিস্থিতির ফলে তিলোত্তমায় নিরাপত্তা ও নজরদারি আরও কঠোর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এক ঝলকে
- ওড়িশা সীমান্ত দিয়ে বহিরাগতদের বাংলায় প্রবেশের অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর।
- কালো স্করপিও গাড়িতে করে কয়েকশো কোটি টাকা ভবানীপুর ও চেতলায় বিলি করার দাবি।
- স্থানীয় আধিকারিকদের বদল নিয়ে প্রশাসনিক অসন্তোষ প্রকাশ।
- নন্দীগ্রামের তুলনায় ভবানীপুরের ভোট পরিস্থিতি ও জনমত যে আলাদা, তা স্পষ্ট করেছেন মমতা।
