স্কুল গড়তে চুরমার ৮০০ বছরের মন্দির! তেলেঙ্গানায় তুঙ্গে বিতর্ক, রিপোর্ট তলব করল কেন্দ্র – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
তেলেঙ্গানার ওয়ারাঙ্গল জেলায় স্কুল নির্মাণের জন্য কাকতীয় আমলের একটি ৮০০ বছরের প্রাচীন শিব মন্দির বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। খানাপুর মণ্ডলের অশোক নগরে অবস্থিত এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি ভেঙে ফেলার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ১৩শ শতকের রাজা গণপতিদেবের শাসনকালের এই মন্দিরে বিরল তেলুগু শিলালিপি ছিল, যা এই অঞ্চলের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে বিবেচিত।
আইনি জটিলতা ও কেন্দ্রের হস্তক্ষেপ
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে জাতীয় স্মৃতিস্তম্ভ কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছেন মানবাধিকার আইনজীবীরা। মন্দিরটি ভাঙার ক্ষেত্রে প্রত্নতত্ত্ব ও দেবোত্তর বিভাগের কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে, যা সরাসরি ঐতিহ্য সংরক্ষণ আইনের লঙ্ঘন। বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি ও ইতিহাস মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকারের কাছে কৈফিয়ত তলব করেছে। অভিযোগ উঠেছে যে, রাজ্য সরকার বাধ্যতামূলক ঐতিহ্য সংরক্ষণ কমিটি গঠনে ব্যর্থ হওয়ার কারণেই এই ধরনের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে।
প্রশাসনের সাফাই ও পুনর্নির্মাণের প্রতিশ্রুতি
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবশ্য ইচ্ছাকৃতভাবে মন্দির ভাঙার অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। তাদের দাবি, জঙ্গল পরিষ্কার করার সময় কিছু জরাজীর্ণ কাঠামোর ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গিয়েছিল যা কোনো সংরক্ষিত তালিকার অন্তর্ভুক্ত ছিল না। তবে জনরোষের মুখে পড়ে জেলাশাসক ও স্থানীয় বিধায়ক ওই স্থানেই মন্দিরটি পুনর্নির্মাণের আশ্বাস দিয়েছেন। ঐতিহ্যবাহী স্থপতি ও ইতিহাসবিদদের পরামর্শ মেনেই এই সংস্কার কাজ করা হবে বলে প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে।
এক ঝলকে
- তেলেঙ্গানার ওয়ারাঙ্গলে স্কুল তৈরির জন্য কাকতীয় আমলের প্রাচীন শিব মন্দির ভাঙার অভিযোগ।
- ১২৩১ খ্রিস্টাব্দের বিরল শিলালিপি সমৃদ্ধ মন্দিরটি গুঁড়িয়ে দেওয়ায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ।
- ঐতিহ্য সংরক্ষণ আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থার আবেদন।
- প্রশাসনের পক্ষ থেকে মন্দিরটি আগের রূপে পুনর্নির্মাণের ও সংরক্ষণের প্রতিশ্রুতি।
