স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়, সবই ফ্রি! কারা পাচ্ছেন এই বড় সুবিধা? – এবেলা

স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়, সবই ফ্রি! কারা পাচ্ছেন এই বড় সুবিধা? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

কেজি থেকে স্নাতকোত্তর পর্যন্ত পড়াশোনা এবার একেবারে বিনামূল্যে! ওড়িশায় বিজেপি সরকারের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে এক ঐতিহাসিক ঘোষণা করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি। নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে ওড়িশার সমস্ত সরকারি স্কুল এবং কলেজে প্রাক-প্রাথমিক বা কেজি (KG) থেকে শুরু করে স্নাতকোত্তর বা এমএ (MA) পর্যন্ত শিক্ষার জন্য শিক্ষার্থীদের কোনো খরচ বহন করতে হবে না। দেশের মধ্যে অন্যতম বৃহৎ পরিসরে ‘কেজি থেকে পিজি’ বিনামূল্যে শিক্ষার মডেল গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

শিক্ষার অধিকার রক্ষা ও ঝরে পড়া রোধ

মুখ্যমন্ত্রীর মতে, শিক্ষা কোনো বিশেষ সুবিধা নয়, বরং এটি প্রত্যেকের মৌলিক অধিকার। মূলত শিক্ষাকে সাধারণ মানুষের আরও সহজলভ্য করে তোলা এবং আর্থিক অনটনের কারণে যাতে কোনো শিক্ষার্থীর পড়াশোনা মাঝপথে বন্ধ না হয়, সেই উদ্দেশ্যেই এই বিশেষ প্রকল্প চালু করা হয়েছে। সরকারি এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজ্যের আর্থিকভাবে দুর্বল পরিবারগুলির ওপর থেকে পড়াশোনার বড়ো আর্থিক বোঝা এক লপ্তে নেমে যাবে। বিশেষ করে গ্রামীণ ও দরিদ্র পরিবারের মেয়েদের উচ্চশিক্ষার হার বাড়াতে এবং কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় স্তরে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার প্রবণতা রোধ করতে এই উদ্যোগ অত্যন্ত ইতিবাচক ও দূরদর্শী প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

পরিকাঠামো উন্নয়ন ও শিক্ষক নিয়োগের মহাপরিকল্পনা

বিনামূল্যে শিক্ষার পাশাপাশি রাজ্যের সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে পরিকাঠামো ক্ষেত্রে ব্যাপক সংস্কারের হাত দিয়েছে ওড়িশা সরকার। জাতীয় শিক্ষা নীতি ২০২০ (NEP 2020) কার্যকর করার পাশাপাশি প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েতে ‘গোদাবরীশ মিশ্র আদর্শ প্রাথমিক বিদ্যালয়’ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে এমন ২,২০০টি স্কুল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে, যার মধ্যে ৩২২টি স্কুলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন সম্পন্ন হয়েছে। এর পাশাপাশি মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে গত দুই বছরে ২৬,৬১৫ জন শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী নিয়োগ করা হয়েছে এবং আগামী তিন বছরে আরও ৪৫ হাজার শিক্ষক নিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

উচ্চশিক্ষার বিস্তার ও আঞ্চলিক উন্নয়ন

উচ্চশিক্ষাকে আরও সুদূরপ্রসারী করতে রাজ্যে চারটি নতুন বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলার পাশাপাশি গ্রামীণ এলাকায় ইতিমধ্যেই ১৮টি নতুন সরকারি কলেজ চালু করা হয়েছে। বিনামূল্যে শিক্ষার এই মহাপরিকল্পনার সাথে নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন এবং বিপুল সংখ্যক শিক্ষক নিয়োগের ফলে ওড়িশার প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীরাও আধুনিক ও উন্নত শিক্ষার সুযোগ পাবে। সামগ্রিকভাবে এই রূপান্তর ওড়িশাকে পূর্ব ভারতের অন্যতম প্রধান শিক্ষাকেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে সাহায্য করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *