স্ট্রাকচারাল প্ল্যান ছাড়াই তারাতলায় গুদাম অনুমোদন! বড়সড় দুর্নীতির অভিযোগে তোলপাড় পুরসভা – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
কলকাতা: তারাতলার ভয়াবহ বিপর্যয়ের নেপথ্যে কি পুরসভার গাফিলতি? স্ট্রাকচারাল প্ল্যান জমা না পড়া সত্ত্বেও কীভাবে একটি গুদামের নকশা অনুমোদন করা হলো, তা নিয়ে এখন প্রশ্নচিহ্নের মুখে কলকাতা পুরসভা। আইনের ফাঁক গলে কীভাবে চলল এই অবৈধ নির্মাণ, তা নিয়ে উঠছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ।
কীভাবে ঘটল এই গাফিলতি?
নিয়ম অনুযায়ী, কোনো নির্মাণের জন্য বিল্ডিং প্ল্যানের (নকশা) পাশাপাশি স্ট্রাকচারাল প্ল্যান (নির্মাণ কাঠামো ও উপাদানের বিবরণ) জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু তারাতলার ওই গুদামের ক্ষেত্রে নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখানো হয়েছে। অভিযোগ:
- মুচলেকায় ছাড়পত্র: পুরসভার নথি বলছে, স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার ভবিষ্যতে প্ল্যান জমা দেবেন— এই মর্মে একটি মুচলেকা লিখিয়েই বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদন করা হয়েছিল। অথচ ‘বিল্ডিং রুলস সেভেন’ অনুযায়ী, স্ট্রাকচারাল প্ল্যান ছাড়া কোনো অবস্থাতেই বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদন পাওয়ার কথা নয়।
- সয়েল টেস্টের বালাই নেই: নির্মাণের জন্য মাটি পরীক্ষা বা ‘সয়েল টেস্ট’ রিপোর্ট জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। তারাতলার ক্ষেত্রে তা জমা দেওয়া হয়নি। পুরোনো কারখানা ছাড়া অন্য ক্ষেত্রে সয়েল টেস্ট ছাড়া অনুমোদন পাওয়ার কোনো সুযোগই নেই।
- ইঞ্জিনিয়ারদের অন্ধকারে রাখা: যে বিল্ডিং প্ল্যানে স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার ও আর্কিটেক্টের সই রয়েছে, তাঁরা নিজেরাও নাকি এই নির্মাণ সম্পর্কে অন্ধকারে ছিলেন! প্ল্যান হাতে পাওয়ার পরই পুরসভাকে না জানিয়ে তড়িঘড়ি নির্মাণ কাজ শুরু করে দেয় প্রোমোটার।
কেন এই ‘নিয়ম ভাঙা’র খেলা?
অভিযোগ উঠছে, প্রোমোটার বা শিল্পপতিরা যাতে খুব সহজে ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ পেতে পারেন, তার জন্যই করোনার সময় থেকে স্ট্রাকচারাল প্ল্যান ছাড়াই বিল্ডিং প্ল্যান পাশ করানোর এক অশুভ রেওয়াজ তৈরি হয়েছে। আর এই অনৈতিক বাণিজ্যের বলি হয়েই তারাতলায় নেমে এল চরম বিপর্যয়। এখন এই ঘটনার দায় কে নেবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে শহরবাসী।
