স্ত্রীকে নিয়ে দার্জিলিংয়ের টয়ট্রেনে দিলীপ, যাত্রাপথেই শোনালেন কোন রাজনৈতিক ইঙ্গিত? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
সস্ত্রীক টয়ট্রেনে চড়ে পাহাড়ের আমজনতার সঙ্গে খোশমেজাজে মেতে উঠলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। উত্তরবঙ্গে পর্যটনের প্রসার এবং কার্শিয়াংয়ে অনুষ্ঠিত দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের (ডিএইচআর) ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের উদ্বোধন উপলক্ষে বর্তমানে পাহাড় সফরে রয়েছেন তিনি। শনিবার সাধারণ পর্যটকদের সঙ্গে নিয়েই কার্শিয়াং থেকে টুং পর্যন্ত টয়ট্রেন সফর করেন মন্ত্রী ও তাঁর স্ত্রী রিঙ্কু ঘোষ। ভিআইপি সংস্কৃতির বাইরে এসে মন্ত্রীকে অত্যন্ত সাধারণের মতো সহযাত্রী হিসেবে পেয়ে উচ্ছ্বসিত সাধারণ মানুষ ও পর্যটকরা। এই বিরল মুহূর্তকে ক্যামেরাবন্দি করতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায়।
পর্যটনের বিকাশ ও নতুন কর্মসংস্থানের বার্তা
রেল সূত্রের খবর, মন্ত্রীর এই টয়ট্রেন যাত্রার মূল উদ্দেশ্য ছিল উত্তরবঙ্গের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরা এবং দেশ-বিদেশের পর্যটকদের আকর্ষিত করা। কার্শিয়াংয়ের ব্যতিক্রমী চলচ্চিত্র উৎসবের অংশ হিসেবে এবার স্টেশনের ক্যাফে এবং টয়ট্রেনের কোচের ভেতরেও চলচ্চিত্র প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই অভিনব উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে দিলীপ ঘোষ উল্লেখ করেন, পাহাড়ে পর্যটন শিল্পের বিকাশ ঘটলে হোটেল, হোম-স্টে এবং পরিবহন ব্যবসার যেমন উন্নতি হবে, তেমনই পাহাড়ের যুব সমাজের জন্য তৈরি হবে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ।
বঞ্চনার অভিযোগ ও পরিকাঠামো উন্নয়নের দাবি
টয়ট্রেনে ভ্রমণের পর পাহাড়ের বর্তমান পরিকাঠামো ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী। পূর্বতন তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলের সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ করেন, পাহাড়ের বহু মানুষ এখনও কেন্দ্রীয় স্তরের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন এবং সেখানকার পঞ্চায়েত ব্যবস্থাতেও বড়সড় খামতি রয়েছে। এই সফরের মাধ্যমে তিনি পাহাড়ের সার্বিক উন্নয়ন, সরকারি প্রকল্পের অগ্রগতি এবং প্রশাসনিক কাজের একটি বাস্তব পর্যালোচনাও সারেন, যা আগামী দিনে পাহাড়ের গ্রামীণ পরিকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
