স্ত্রীর নামে লাখ লাখ টাকার ঋণ নিয়ে পলাতক স্বামী, আদালতের ঐতিহাসিক রায়ে গুণতে হচ্ছে বিশাল জরিমানা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বিয়ের পবিত্র সম্পর্ককে পুঁজি করে আর্থিক প্রতারণা ও মানসিক নির্যাতনের এক নজিরবিহীন ঘটনায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে এলাহাবাদ হাইকোর্ট। ২০১৯ সালে উত্তরপ্রদেশের ইটাওয়ায় বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া এক দম্পতিকে ঘিরে এই ঘটনার সূত্রপাত। স্ত্রী এলাহাবাদ হাইকোর্টে সরকারি চাকরি পাওয়ার পর থেকেই সম্পর্কের অবনতি ঘটে বলে অভিযোগ। অভিযোগ রয়েছে, উচ্চাকাঙ্ক্ষী স্বামী নিজের ক্যারিয়ার গড়তে ব্যর্থ হয়ে স্ত্রীর উপার্জনকে শোষণের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেন।
প্রতারণার জাল ও আর্থিক শোষণ
তদন্তে উঠে এসেছে যে, স্বামী তার স্ত্রীর নামে জমি কেনার অজুহাতে দুটি ব্যক্তিগত ঋণ গ্রহণ করেন যার মোট পরিমাণ প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা। এই বিশাল অঙ্কের অর্থ স্ত্রীর অজান্তেই নিজের অ্যাকাউন্টে সরিয়ে ফেলেন তিনি। শুধু তাই নয়, স্ত্রীকে বাপের বাড়িতে ফেলে রেখে ঘরের দামী অলঙ্কার ও গাড়ি নিয়ে চম্পট দেন ওই ব্যক্তি। পরবর্তীতে গাড়ি ফেরত দেওয়ার বিনিময়ে উল্টো ১০ লক্ষ টাকা দাবি করে স্ত্রীকে ব্ল্যাকমেইল শুরু করেন তিনি।
আদালতের কঠোর পর্যবেক্ষণ ও দণ্ড
বিস্ময়করভাবে এই প্রতারক স্বামী পরবর্তীতে নিজের প্রকৃত আয় গোপন করে আদালতের কাছে স্ত্রীর কাছ থেকেই খোরপোশ বা মেইনটেন্যান্স দাবি করেন। তবে উচ্চ আদালত পুরো বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে দেখতে পায় যে, স্বামী কেবল আর্থিক শোষণই করেননি বরং ভুয়া হলফনামা দিয়ে আইনকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছেন। আদালত স্পষ্ট জানায় যে, বিয়ের নাম করে কোনোভাবেই সঙ্গীর ওপর আর্থিক বা মানসিক নিপীড়ন বরদাস্ত করা হবে না।
শাস্তি হিসেবে ১৫ লক্ষ টাকা জরিমানা
বিচারপতিরা এই মামলার রায়ে আইনের অপব্যবহার করার জন্য স্বামীর ওপর ১৫ লক্ষ টাকা জরিমানা ধার্য করেছেন। আদালত মনে করে, স্বাবলম্বী স্ত্রীর উপার্জনের ওপর নজর দেওয়া এবং তার নামে নেওয়া ঋণের অর্থ আত্মসাৎ করা একটি গুরুতর অপরাধ। এই রায় ভবিষ্যতে বৈবাহিক শোষণের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।
এক ঝলকে
- স্ত্রীর নামে ২৫ লক্ষ টাকার লোন নিয়ে সেই অর্থ আত্মসাৎ এবং অলঙ্কার নিয়ে পলাতক স্বামী।
- নিজের অপরাধ আড়াল করে উল্টো স্ত্রীর কাছে খোরপোশ দাবি করে আদালতে আবেদন।
- ভুয়া হলফনামা ও আর্থিক শোষণের অভিযোগে অভিযুক্ত স্বামীকে ১৫ লক্ষ টাকা জরিমানা।
- এলাহাবাদ হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী বিয়ের সম্পর্ককে শোষণের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।
