স্বামীকে পাঠালেন চিকেন রাইস কিনতে, প্রেমিকের মেসেজ এল ‘কাজ শেষ’! হাড়হিম করা কাণ্ড – এবেলা

স্বামীকে পাঠালেন চিকেন রাইস কিনতে, প্রেমিকের মেসেজ এল ‘কাজ শেষ’! হাড়হিম করা কাণ্ড – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পরকীয়া প্রেমের কাঁটা সরাতে স্বামীকে চরম নৃশংসভাবে খুন করালেন স্ত্রী। পুলিশ যাতে বিষয়টিকে নিছক পথ দুর্ঘটনা বলে মনে করে, তার জন্য সাজানো হয়েছিল নিখুঁত প্ল্যান। কিন্তু শেষরক্ষা হলো না। মহারাষ্ট্রের বিড জেলা পুলিশের চাতুর্যের কাছে ফাঁস হয়ে গেল গোটা অপরাধের খতিয়ান। এই হাড়হিম করা হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে পুলিশ নিহতের স্ত্রী, তাঁর প্রেমিক ও এক সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৩১ মে রাস্তার ধারে কিরণ সোনবানে নামের এক ব্যক্তির রক্তাক্ত মৃতদেহ ও তাঁর বাইক উদ্ধার হয়। প্রথমটায় এটিকে পথ দুর্ঘটনা মনে করা হলেও, ময়নাতদন্ত ও পারিপার্শ্বিক তথ্য পুলিশের মনে খটকা তৈরি করে। এরপরই তদন্তে নেমে কেঁচো খুঁড়তে কেউটে বের করে পুলিশ। জানা যায়, এটি দুর্ঘটনা নয়, বরং আগে থেকে ছক কষা এক ঠাণ্ডা মাথার খুন।

চিকেন রাইসের অছিলায় মৃত্যুর ফাঁদ:

তদন্তে উঠে এসেছে, ৩১ মে রাতে কিরণের স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা সোনবানে তাঁর স্বামীকে রাতের খাবারের জন্য ‘চিকেন রাইস’ কিনে আনতে বলেন। স্বামী বাড়ি থেকে বের হতেই প্রিয়াঙ্কা সঙ্গে সঙ্গে সেই খবর পৌঁছে দেন তাঁর প্রেমিক দশরথ পরদেশীর কাছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, দশরথ ও তার বন্ধু ধীরাজ রাস্তায় ওত পেতে বসেছিল। কিরণ বাইক নিয়ে ফিরতেই তারা পথ আটকে তাঁর গলা টিপে শ্বাসরোধ করে খুন করে। এরপর অপরাধ ঢাকতে কিরণের মরদেহের ওপর তাঁরই বাইকটি ফেলে রেখে দুর্ঘটনা হিসেবে চালানোর চেষ্টা করে তারা। খুন করার ঠিক পর মুহূর্তেই প্রেমিক দশরথ প্রিয়াঙ্কাকে ফোনে কোড ল্যাঙ্গুয়েজে বার্তা দেয়— “কার্যক্রম ওকে” (অর্থাৎ, কাজ শেষ)!

খুনের পর ইনস্টাগ্রামে ৫ ঘণ্টার প্রেমলাপ!

পুলিশি জেরায় উঠে এসেছে আরও এক ভয়ঙ্কর তথ্য। স্বামীকে সফলভাবে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার আনন্দে ওই রাতেই ঘাতক স্ত্রী ও তাঁর প্রেমিক ইনস্টাগ্রাম (Instagram) অডিও কলের মাধ্যমে টানা ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা গল্প মেতেছিল। পুলিশ তাদের মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করার পর এই সোশ্যাল মিডিয়া কল রেকর্ড ও ডিজিটাল তথ্যই অপরাধীদের ধরার মূল সূত্র হয়ে দাঁড়ায়।

জেরায় প্রিয়াঙ্কা নিজের পরকীয়া সম্পর্কের কথা স্বীকার করে দাবি করেছেন, তাঁর স্বামী প্রতিদিন মদ্যপান করে এসে তাঁকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন। আর সেই কারণেই স্বামীকে চিরতরে সরিয়ে দেওয়ার এই ভয়ঙ্কর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। বর্তমানে তিন অভিযুক্তই শ্রীঘরে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *