স্বামীর পথে হাঁটছেন না নয়না! দলবদল জল্পনা উড়িয়ে মুখ খুললেন খোদ সুদীপ – এবেলা

স্বামীর পথে হাঁটছেন না নয়না! দলবদল জল্পনা উড়িয়ে মুখ খুললেন খোদ সুদীপ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য রাজনীতিতে বর্ষীয়ান নেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলবদলের পর থেকেই তাঁর স্ত্রী তথা চৌরঙ্গীর তৃণমূল বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে ওঠে। অনেকেই ধারণা করেছিলেন, স্বামীর পথ অনুসরণ করে তিনিও সদ্য গঠিত এনসিপিআই-তে যোগ দেবেন। তবে সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে কলকাতা উত্তরের সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই স্পষ্ট করেছেন যে, নয়না আপাতত তৃণমূলেই থাকছেন।

রাজনৈতিক মতপার্থক্য ও পারস্পরিক বোঝাপড়া

সাম্প্রতিক একটি সাক্ষাৎকারে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হলেও তাঁরা একে অপরকে নিজেদের মতাদর্শের বিষয়ে রাজি করাতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত তাঁরা পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে ভিন্ন রাজনৈতিক পথ বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও ব্যক্তিগত সম্পর্কে তার কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন। বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি সৌগত রায় ও তথাগত রায়ের মতো একই পরিবারের সদস্যদের ভিন্ন রাজনৈতিক দলে থাকার উদাহরণও তুলে ধরেন। মূলত নিজেদের আদর্শগত অবস্থান স্পষ্ট রাখা এবং নিজ নিজ দলের প্রতি দায়বদ্ধতা বজায় রাখতেই এই পারস্পরিক বোঝাপড়ার পথে হেঁটেছেন তাঁরা।

সমালোচকদের জবাব ও সম্ভাব্য প্রভাব

দলত্যাগের পর তৃণমূলের একাংশের কটাক্ষ ও সমালোচনার কড়া জবাব দিয়েছেন এই প্রবীণ নেতা। তিনি মনে করিয়ে দেন যে, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় পাঁচবার তৃণমূলের টিকিটে এবং তিনি নিজে কংগ্রেস ও তৃণমূল মিলিয়ে মোট দশবার জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছেন। জনপ্রতিনিধি হিসেবে পনেরো বার একটি পরিবার থেকে জয়লাভ করা সাধারণ মানুষের ব্যাপক সমর্থন ছাড়া সম্ভব নয়। সুদীপের এই দলবদল এবং স্ত্রীর শাসক দলে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত রাজ্য রাজনীতিতে এক অভিনব সমীকরণ তৈরি করেছে। এর ফলে একদিকে যেমন তৃণমূল কংগ্রেস চৌরঙ্গী কেন্দ্রে তাদের সাংগঠনিক শক্তি ও জনপ্রতিনিধিকে ধরে রাখতে সক্ষম হলো, অন্যদিকে নতুন রাজনৈতিক মঞ্চ থেকে সুদীপের লড়াই আগামী নির্বাচনে কলকাতা উত্তরের রাজনৈতিক সমীকরণে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *