স্বাস্থ্যভবনে নতুন যুগ! থ্রেট কালচার রুখে অভয়া কাণ্ডের বিচারের কড়া বার্তা মন্ত্রী শারদ্বতের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
দীর্ঘ ১৫ বছর পর রাজ্যের স্বাস্থ্যভবন পেল একজন পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যমন্ত্রী। বিশিষ্ট ক্যানসার চিকিৎসক শারদ্বত মুখোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মন্ত্রিসভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করলেন। একইসঙ্গে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন বলাগড়ের বিধায়ক সুমনা সরকার। একজন চিকিৎসকের হাতেই রাজ্যের স্বাস্থ্যব্যবস্থার ভার ওঠায় চিকিৎসক মহলে খুশির হাওয়া। দায়িত্ব নিয়েই স্বাস্থ্যক্ষেত্রে আমূল সংস্কার ও কড়া পদক্ষেপের বার্তা দিয়েছেন নতুন মন্ত্রী।
অভয়া কাণ্ডের বিচার ও ‘থ্রেট কালচার’ নির্মূলের অঙ্গীকার
দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই মন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় স্পষ্ট করে দেন, অভয়া কাণ্ডে জড়িত কেউ ছাড় পাবে না, সে চিকিৎসক হলেও নয়। কীভাবে এবং কাদের দ্বারা ময়নাতদন্ত হয়েছিল, তার সমস্ত খাতা ফের খোলা হবে বলে তিনি জানান। পাশাপাশি, রাজ্যের চিকিৎসা-শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে চলা ‘থ্রেট কালচার’ বা দাদাগিরি চিরতরে বন্ধ করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, বদলার বদলি নতুন সরকারের সংস্কৃতি নয়, তবে দোষীদের কড়া শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে। সরকারি স্বাস্থ্যক্ষেত্রে থাকা বিভিন্ন ফাঁকফোকর মেরামত করা, ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পরিকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি স্কুলস্তরে ‘বেসিক লাইফ সাপোর্ট’ শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাবও দিয়েছেন তিনি।
গ্রামীণ স্বাস্থ্যের পরিকাঠামো উন্নয়ন
পূর্ণমন্ত্রীর পাশাপাশি রাজ্যের গ্রামীণ স্বাস্থ্য পরিকাঠামো ঢেলে সাজানোর দিকে জোর দিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী সুমনা সরকার। জেলা, মহকুমা ও ব্লক স্তরে পর্যাপ্ত চিকিৎসা পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে কলকাতার বড় হাসপাতালগুলিতে রোগীর ভিড় কমানো তাঁর প্রধান লক্ষ্য। দক্ষিণ ভারতে চিকিৎসা করাতে যাওয়ার যে প্রবণতা রাজ্যবাসীর মধ্যে রয়েছে, মেডিক্যাল কলেজ স্তরে অত্যাধুনিক পরিষেবার মাধ্যমে তা ঘোচানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
ক্রমাগত বিরোধিতার কারণে পূর্বতন সরকারের আমলে এই স্বাস্থ্যভবনের দরজাই একসময় চিকিৎসক শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের জন্য কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। পূর্বের সেই প্রশাসনিক অবহেলার অবসান ঘটিয়ে এখন খোদ একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের নেতৃত্বে স্বাস্থ্যদপ্তর পরিচালিত হতে চলেছে। এর ফলে আগামী দিনে রাজ্যের সার্বিক চিকিৎসা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ফিরবে এবং উন্নততর পরিকাঠামোগত পরিবর্তনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য পরিষেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে দীর্ঘস্থায়ী ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।
