স্মার্টফোন ও ল্যাপটপের নেশায় কি আপনার মস্তিষ্ক শুকিয়ে যাচ্ছে? চিকিৎসকদের ভয়ংকর সতর্কবার্তা – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
বর্তমানে স্মার্টফোন এবং ল্যাপটপ আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু এই ডিজিটাল আসক্তি আপনার শরীরের ওপর কতটা মারাত্মক প্রভাব ফেলছে তা কি জানেন? সম্প্রতি লেডি হার্ডিং হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের পরিচালক ডাঃ এল.এইচ. ঘোটকার এই বিষয়ে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য শেয়ার করেছেন।
মস্তিষ্কের ওপর ডিজিটাল আঘাত
চিকিৎসকদের মতে স্মার্টফোন বা ল্যাপটপের স্ক্রিন থেকে নির্গত নীল আলো (Blue Light) আমাদের মস্তিষ্ককে সারাক্ষণ ‘অ্যালার্ট মোড’-এ রাখে। এর ফলে মস্তিষ্ক প্রয়োজনীয় বিশ্রাম পায় না। ক্রমাগত নোটিফিকেশন এবং তথ্যের চাপে মস্তিষ্কের ‘কগনিটিভ লোড’ বেড়ে যায়, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর। এর ফলে অল্পতেই খিটখিটে মেজাজ, মানসিক ক্লান্তি এবং অকারণ রাগের মতো সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
স্মৃতিশক্তি ও ঘুমের দফারফা
দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনের সামনে বসে থাকার ফলে মানুষের একাগ্রতা নষ্ট হচ্ছে। গবেষণায় দেখা গেছে যে ক্রমাগত মাল্টিটাস্কিং করার ফলে দীর্ঘমেয়াদী স্মৃতিশক্তি (Long-term memory) লোপ পেতে শুরু করে। সবচেয়ে ভয়ংকর প্রভাব পড়ছে ঘুমের ওপর। রাতে মোবাইল ব্যবহারের ফলে মস্তিষ্ক মনে করে এখনও দিন রয়েছে, যার ফলে শরীরে ‘মেলাটোনিন’ হরমোনের ক্ষরণ কমে যায়। এর পরিণতি হলো অনিদ্রা এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা হ্রাস পাওয়া।
চোখের বারোটা বাজছে যেভাবে
স্ক্রিনের দিকে একনাগাড়ে তাকিয়ে থাকার ফলে চোখের পেশিতে প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হয়। এতে সারাক্ষণ মাথা ব্যথা বা মাথা ভার হয়ে থাকার মতো সমস্যা তৈরি হয়। সাধারণত স্ক্রিন দেখার সময় আমরা চোখের পলক কম ফেলি, যার ফলে চোখ শুকিয়ে যাওয়া (Dry Eyes), চোখ লাল হওয়া বা চুলকানির মতো সমস্যা প্রকট হচ্ছে।
বাঁচার উপায় কী
এই ডিজিটাল অভিশাপ থেকে বাঁচতে বিশেষজ্ঞরা বিশেষ কিছু পরামর্শ দিয়েছেন।
- ২০-২০-২০ নিয়ম: প্রতি ২০ মিনিট অন্তর অন্তত ২০ ফুট দূরের কোনো বস্তুর দিকে ২০ সেকেন্ড তাকিয়ে থাকুন। এতে চোখের পেশি বিশ্রাম পায়।
- ডিজিটাল ব্রেক: প্রতি ৪০ থেকে ৫০ মিনিট কাজ করার পর অন্তত ১০ মিনিটের বিরতি নিন।
- ঘুমের আগে সতর্কতা: ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে মোবাইল বা ল্যাপটপ পুরোপুরি বন্ধ করে দিন।
- শারীরিক ব্যায়াম: চোখের ও ঘাড়ের ব্যায়ামের পাশাপাশি প্রতিদিন কিছুটা সময় প্রকৃতির সান্নিধ্যে কাটানোর চেষ্টা করুন।
আপনার সামান্য সচেতনতাই পারে আপনার মস্তিষ্ক ও চোখকে অকাল ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে।

