স্মার্টফোনে বন্দি বাবা-মা, একাকীত্বে ভুগছে সন্তান! ফাবিংয়ের শিকার আজকের প্রজন্ম – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
কর্মব্যস্ত দিনের শেষে বাড়ি ফিরে বাবা-মা ডুবে যাচ্ছেন স্মার্টফোনের পর্দায়, আর পাশেই অবহেলিত হচ্ছে সন্তান। বর্তমান আধুনিক সমাজে এই পরিচিত চিত্রটির পোশাকি নাম ‘ফাবিং’ (Phone এবং Snubbing-এর মিশ্রণ)। নিজের কাছের মানুষকে উপেক্ষা করে ফোনে মগ্ন থাকার এই প্রবণতা অজান্তেই কেড়ে নিচ্ছে আজকের প্রজন্মের শিশুদের শৈশব। বাবা-মায়ের সামান্য সময়ের এই অবহেলা শিশুদের মনে দীর্ঘস্থায়ী একাকীত্বের জন্ম দিচ্ছে এবং পারিবারিক সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি করছে।
সন্তানের মানসিক বিকাশে ফাবিংয়ের বিরূপ প্রভাব
বাবা-মা যখন সন্তানের ডাকে সাড়া না দিয়ে ফোনের স্ক্রিনে আটকে থাকেন, তখন শিশুর মনে এই ধারণা জন্ম নেয় যে সে মোটেও গুরুত্বপূর্ণ নয়। বারবার এমনটা ঘটলে শিশু নিজেকে গুটিয়ে নেয় এবং একসময় সে নিজেও ফোন, টিভি বা ভিডিও গেমের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ে। মনোযোগ না পাওয়ার ফলে শিশুদের মধ্যে জেদ এবং রাগ অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পায়। অনেকেই যাকে নিছক আচরণগত সমস্যা বলে ভুল করেন, তা মূলত শিশুর মনোযোগ আকর্ষণের মরিয়া চেষ্টা। এছাড়া, শিশুরা বাবা-মায়ের মুখ দেখেই ভাষা ও আবেগ শিখতে শুরু করে। কিন্তু চোখের যোগাযোগ না থাকায় তাদের মানসিক ও ভাষাগত বিকাশ মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়, যা ভবিষ্যতে অন্যদের সাথে তাদের সামাজিক যোগাযোগ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। অন্যদিকে, মানসিক চাপ কমানোর অজুহাতে বাবা-মা ফোন ঘাঁটলেও, বাচ্চার জেদ এবং পারিবারিক অশান্তি তাদের আরও বেশি একাকীত্ব ও স্ট্রেসের দিকে ঠেলে দেয়।
এই সংকট থেকে মুক্তির উপায়
এই দুষ্টচক্র থেকে বেরিয়ে আসতে দৈনন্দিন রুটিনে কিছু সাধারণ কিন্তু কার্যকর পরিবর্তন আনা অত্যন্ত জরুরি। দিনে অন্তত ২০ মিনিট ফোন অন্য ঘরে সরিয়ে রেখে সন্তানকে সম্পূর্ণ মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। এই নিরবচ্ছিন্ন গুণগত সময়, দীর্ঘক্ষণ পাশে বসে ফোন ঘাঁটার চেয়ে সন্তানের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অনেক বেশি উপকারী। পাশাপাশি, খাওয়ার টেবিলকে সম্পূর্ণ ‘নো ফোন জোন’ হিসেবে ঘোষণা করা যেতে পারে, যেখানে স্মার্টফোন বন্ধ রেখে শুধুমাত্র সারাদিনের গল্প বা অভিজ্ঞতা বিনিময় হবে। সর্বোপরি, শিশুদের স্ক্রিনটাইম কমানোর নির্দেশ দেওয়ার আগে বাবা-মাকেই ফোন ব্যবহারে রাশ টেনে একটি আদর্শ উদাহরণ তৈরি করতে হবে।
সারাদিনের ক্লান্তি বা মানসিক চাপ কাটাতে স্মার্টফোন হয়তো সাময়িক স্বস্তি দেয়, কিন্তু সেই সাময়িক বিরতি সন্তানের জীবনে স্থায়ী শূন্যতা তৈরি করে। শৈশবের এই মূল্যবান সময় একবার পেরিয়ে গেলে তা আর ফিরে আসে না, তাই ভার্চুয়াল জগতের চেয়ে সন্তানের সাথে বাস্তবের সংযোগ দৃঢ় করাই এখন সবচেয়ে বড় প্রয়োজন।
