হনুমানজি ছাড়াও পৃথিবীতে আজও জীবিত এই ৭ অমর ব্যক্তি! জানুন কারা তারা?

মর্ত্যে আজও আটজন চিরঞ্জীবী: হনুমানজি ছাড়াও কারা অমর? জানুন পৌরাণিক রহস্য
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস অনুযায়ী, হনুমানজি অমর। ভগবান শিবের একাদশ রুদ্র অবতার হিসেবে পরিচিত বজরংবলীকে নিয়ে ভক্তদের মনে সর্বদা কৌতূহল থাকে। তবে পৌরাণিক শাস্ত্র ও ধর্মীয় বিশ্বাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, কেবল হনুমানজি নন, আরও সাতজন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব অমরত্বের আশীর্বাদ বা অভিশাপ পেয়ে আজও এই পৃথিবীতে বিরাজ করছেন। কলিযুগের শেষ পর্যন্ত তাঁদের অস্তিত্ব থাকবে বলে মনে করা হয়।
কেন হনুমানজি অমর?
হনুমান জয়ন্তীর পুণ্যলগ্নে অমরত্বের এই বিষয়টি পুনরায় আলোচনায় এসেছে। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, যখন শ্রীরামচন্দ্র অযোধ্যা ত্যাগ করে বৈকুণ্ঠে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখন হনুমানজি মর্ত্যেই থেকে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। শ্রীরামচন্দ্রের প্রতি তাঁর অটল ভক্তি এবং নিষ্ঠা দেখে রামচন্দ্র তাঁকে পৃথিবীতে অমর হয়ে থাকার বরদান দিয়েছিলেন।
আশীর্বাদের মাধ্যমে যারা অমরত্ব লাভ করেছেন
ধর্মীয় গ্রন্থ অনুযায়ী, কয়েকজন ব্যক্তিত্ব তাঁদের তপস্যা ও ধর্মের প্রতি নিষ্ঠার কারণে চিরঞ্জীবী হয়েছেন:
- পরশুরাম: ভগবান বিষ্ণুর ষষ্ঠ অবতার পরশুরাম ত্রেতা যুগে অবতীর্ণ হয়েছিলেন। কঠোর তপস্যার মাধ্যমে তিনি মহাদেবের কাছ থেকে অমরত্বের বর লাভ করেন। শিবের দেওয়া সেই বিশেষ কুঠার বা ‘ফরসা’ তিনি আজও সাথে রাখেন বলে বিশ্বাস করা হয়।
- বিভূষণ: রাবণের ভাই হওয়া সত্ত্বেও বিভূষণ ছিলেন শ্রীরামের পরম ভক্ত। সীতা উদ্ধারের যুদ্ধে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা এবং সত্যের প্রতি নিষ্ঠার কারণে শ্রীরামচন্দ্র তাঁকে লঙ্কার রাজপদ এবং অজর-অমর হওয়ার আশীর্বাদ দেন।
- ঋষি মার্কণ্ডেয়: মহাদেব এবং মহালক্ষ্মীর আরাধনার পাশাপাশি মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র সিদ্ধি করার ফলে ঋষি মার্কণ্ডেয় চিরঞ্জীবী হন।
- মহর্ষি বেদব্যাস: মহাভারত ও শ্রীমদ্ভাগবত পুরাণের রচয়িতা বেদব্যাসকে বিষ্ণুর অংশ মনে করা হয়। শাস্ত্র মতে, তিনি কলিযুগের একদম শেষ পর্যন্ত জীবিত থাকবেন এবং কল্কি অবতারের সঙ্গী হবেন।
- কৃপাচার্য: কৌরব ও পাণ্ডবদের শিক্ষক কৃপাচার্য তাঁর ন্যায়নিষ্ঠার জন্য পরিচিত। সপ্তর্ষিদের অন্যতম এই ঋষি তাঁর সৎকর্মের ফলস্বরূপ অমরত্ব লাভ করেন।
অমরত্বের ভিন্ন রূপ: ত্যাগ ও অভিশাপ
অমরত্বের তালিকায় সবাই আশীর্বাদপ্রাপ্ত নন; কারও ক্ষেত্রে তা ত্যাগের ফল, আবার কারও ক্ষেত্রে কঠোর দণ্ড।
- রাজা বলি: দানবরাজ বলি অত্যন্ত শক্তিশালী শাসক ছিলেন। বিষ্ণু বামন অবতার ধারণ করে তাঁর থেকে তিন পদ ভূমি দান চেয়েছিলেন। বলি যখন নিজের মাথাটি বিষ্ণুর চরণে সঁপে দেন, তখন তাঁর এই ত্যাগে সন্তুষ্ট হয়ে বিষ্ণু তাঁকে পাতাল লোকের অধিপতি করেন। বিশ্বাস করা হয়, তিনি সেখানে আজও অমর।
- অশ্বত্থামা: দ্রোণাচার্যের পুত্র অশ্বত্থামার অমরত্ব আসলে এক যন্ত্রণাদায়ক অভিশাপ। মহাভারতের যুদ্ধে অন্যায় আচরণের কারণে অর্জুন তাঁর কপালের মণিটি সরিয়ে নেন এবং শ্রীকৃষ্ণ তাঁকে অভিশাপ দেন। ফলে তিনি অনন্তকাল ব্যাধিগ্রস্ত অবস্থায় এই পৃথিবীতে ঘুরে বেড়ান।
এক ঝলকে
- হনুমানজি: শ্রীরামের বরদানে পৃথিবীতে বিরাজমান।
- পরশুরাম: শিবের আশীর্বাদে অমর ষষ্ঠ অবতার।
- বিভূষণ: সত্যের পথে চলায় রামের আশীর্বাদপ্রাপ্ত।
- রাজা বলি: পাতাল লোকে অবস্থানরত দানবরাজ।
- ঋষি মার্কণ্ডেয়: মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্রের সিদ্ধিলাভকারী।
- মহর্ষি বেদব্যাস: জ্ঞান ও সাহিত্যের অমর ধারক।
- অশ্বত্থামা: শ্রীকৃষ্ণের অভিশাপে মর্ত্যে বিচরণকারী চিরঞ্জীবী।
- কৃপাচার্য: কৌরব-পাণ্ডবদের অমর শিক্ষক।
