হরমুজ প্রণালী খুলতেই কমার্শিয়াল এলপিজি সরবরাহে বড় ছাড় দিল কেন্দ্র! – এবেলা

হরমুজ প্রণালী খুলতেই কমার্শিয়াল এলপিজি সরবরাহে বড় ছাড় দিল কেন্দ্র! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

দীর্ঘদিনের ভূরাজনৈতিক জটিলতা কাটিয়ে হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত হওয়ার পরপরই দেশের বাজারে এলপিজি সরবরাহ নিয়ে বড়সড় স্বস্তির ঘোষণা করল কেন্দ্রীয় সরকার। আন্তর্জাতিক স্তরে যুদ্ধ পরিস্থিতি থিতু হওয়ায় এবং বিদেশ থেকে এলপিজি আমদানি বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষিতে পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক বাণিজ্যিক বা কমার্শিয়াল এলপিজি সরবরাহের ওপর থেকে সমস্ত বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করে নিয়েছে। ইরান যুদ্ধের আগের স্বাভাবিক সরবরাহ ব্যবস্থাকে ফিরিয়ে আনার এই সিদ্ধান্তে গৃহস্থালির পাশাপাশি স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে দেশের শিল্প মহলও।

বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে স্বস্তি ও মূল্যবৃদ্ধির রাশ

সরকারের এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের ফলে হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং বিভিন্ন ক্ষুদ্র ও মাঝারি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, যারা জ্বালানি হিসেবে এলপিজি সিলিন্ডারের ওপর নির্ভরশীল, তারা বড় ধরনের সুবিধা পাবে। সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে আকাশছোঁয়া হওয়া খাদ্যপণ্যের দাম এবার অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। বাণিজ্যিক এলপিজির পাশাপাশি শিল্পক্ষেত্রের জন্য বাল্ক এলপিজি সরবরাহও যুদ্ধের আগের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ স্বাভাবিক করা হয়েছে। তবে কমার্শিয়াল ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রাহকদের জন্য পিএনজি (পাইপড ন্যাচারাল গ্যাস) সরবরাহে এখনই পুরোপুরি ছাড় দেওয়া হয়নি, এই ক্ষেত্রে কড়াকড়ি কিছুটা বজায় থাকছে।

পেট্রোকেমিক্যাল শিল্পে গতি ও নতুন শর্ত

এর আগে সাধারণ জনগণের ঘরোয়া চাহিদা মেটানোর বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়ে সরকার অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইন (ESMA) প্রয়োগ করেছিল। এর অধীনে প্রোপেন, প্রোপিলিন, বিউটেন ও বিউটাডিনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সি-৩ (C3) এবং সি-৪ (C4) হাইড্রোকার্বন স্ট্রিমগুলোকে পেট্রোকেমিক্যাল ব্যবহারের পরিবর্তে বাধ্যতামূলকভাবে এলপিজি উৎপাদনে ব্যবহার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ফলে রিলায়েন্সস্পতি ইন্ডাস্ট্রিজের মতো দেশের শীর্ষস্থানীয় সংস্থাগুলোকে তাদের পেট্রোকেমিক্যাল উৎপাদন কমিয়ে দিতে হয়েছিল, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল সংশ্লিষ্ট শিল্পে।

বর্তমান সিদ্ধান্তে এই বিধিনিষেধ শিথিল হওয়ায় সংস্থাগুলো পুনরায় তাদের ডাউনস্ট্রিম শিল্পে এই কাঁচামাল ব্যবহার করতে পারবে, যা দেশের শিল্প উৎপাদনে গতি ফেরাবে। তবে শিল্পক্ষেত্রে এই ছাড় দেওয়ার পেছনে কেন্দ্র একটি কঠোর শর্ত জুড়ে দিয়েছে। দেশীয় বাজারে সংকট এড়াতে প্রতি দিন দেশে ন্যূনতম ৪০,০০০ টন এলপিজি উৎপাদন বজায় রাখতে হবে, যাতে আমজনতার রান্নার গ্যাসের জোগানে কোনো ঘাটতি না তৈরি হয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *