হরমুজ প্রণালী নিয়ে দায় ঝাড়লেন ট্রাম্প, এক লাফে ৫ শতাংশ বাড়ল বিশ্ববাজারে তেলের দাম
আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে বড়সড় লাফ লক্ষ্য করা গেল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের পরেই বৃহস্পতিবার বিশ্ববাজারে ক্রুড অয়েলের দাম প্রায় ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে কোনো ইতিবাচক ইঙ্গিত না দেওয়ায় বাজারজুড়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ফলে ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার্সের দাম ব্যারেল প্রতি ১০৬ ডলারে পৌঁছেছে এবং ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) ক্রুডের দাম ৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১০৪ ডলার স্পর্শ করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের বক্তৃতায় যুদ্ধ থামানোর কোনো স্পষ্ট রূপরেখা না থাকায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। আগে ট্রাম্প ২ থেকে ৩ সপ্তাহের মধ্যে যুদ্ধ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা জানিয়েছিলেন, কিন্তু বৃহস্পতিবার তিনি সেই প্রসঙ্গ এড়িয়ে যান। উল্টো ইরানের ওপর আরও তীব্র হামলার হুঁশিয়ারি দেওয়ায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে তেলের বাজারে। বাজার বিশ্লেষকদের দাবি, পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় অপরিশোধিত তেলের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় রয়েছে।
হরমুজ প্রণালী প্রসঙ্গে ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন যে আমেরিকা এই রুটের তেলের ওপর নির্ভরশীল নয়। তিনি সরাসরি বলেন, যেসব দেশ এই সমুদ্রপথ ব্যবহার করে, হরমুজ প্রণালী সচল রাখার দায়িত্ব তাদেরই নিতে হবে। তাঁর এই মন্তব্যকে দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন অনড় অবস্থানে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়া নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
ইলারা ক্যাপিটালের গবেষণা বিভাগ মনে করছে, ইরানের শাসন পরিবর্তন এবং এই জলপথ সচল রাখা নিয়ে আমেরিকার নজর সরে যাওয়ায় তেলের বাজার দ্রুত স্থিতিশীল হওয়ার সম্ভাবনা কম। সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় আগামী দিনগুলোতেও তেলের দাম উচ্চস্তরেই থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সাধারণ গ্রাহকদের জন্য এখনই জ্বালানি তেলের দাম কমার কোনো সুখবর নেই।
