হরমুজ প্রণালীতে ইরানি বাহিনীর গুলিবর্ষণ, ভারতীয় জাহাজ দখল নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) কর্তৃক হরমুজ প্রণালী থেকে ২১ জন ক্রু সদস্যসহ ভারতীয় পণ্যবাহী জাহাজ ‘এপামিনোনডেস’ আটকের ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। গুজরাটের মুন্দ্রা বন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া জাহাজটির ওপর অতর্কিত হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় নাবিকদের নিরাপত্তা নিয়ে চরম আতঙ্ক ছড়িয়েছে। রাজস্থানের বাসিন্দা নাবিক সঞ্জয় মাহার ফোনে তার পরিবারকে জানিয়েছেন, অতর্কিত হামলার সময় প্রাণ বাঁচাতে তারা জাহাজের একটি নিরাপদ কক্ষে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।
কূটনৈতিক সংকট ও নাবিকদের নিরাপত্তা
হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর জলপথে ভারতীয় জাহাজে গুলির ঘটনা ভারতের জন্য নতুন এক কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটি গত কয়েক দিন ধরে ওই এলাকা পার হওয়ার জন্য অনুমতির অপেক্ষায় ছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই ইরানি সেনা সেটিকে ঘিরে ধরে আটক করে। বর্তমানে জাহাজটি ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও সেখানে ভারতের পাশাপাশি ইউক্রেন ও শ্রীলঙ্কার নাবিকরাও বন্দি অবস্থায় রয়েছেন। ১৫ বছর ধরে নৌবাহিনীতে কর্মরত সঞ্জয় মাহারের মতো অভিজ্ঞ নাবিকদের এভাবে আটক হওয়া ভারত সরকারের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
উদ্ধার তৎপরতা ও পরিবারের আর্তি
আটক নাবিকদের পরিবার বর্তমানে গভীর উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। সঞ্জয় মাহারের পরিবার ইতিমধ্যেই স্থানীয় বিধায়কের মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতির জেরে এই আটক প্রক্রিয়া কি না, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞ মহলে বিশ্লেষণ চলছে। নয়াদিল্লির বিদেশ মন্ত্রক এখন এই নাবিকদের দ্রুত ও নিরাপদ প্রত্যাবর্তনে ইরানের সাথে ঠিক কী ধরনের আলোচনা চালায়, সেদিকেই তাকিয়ে আছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো।
এক ঝলকে
- ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস কর্তৃক ২১ জন ক্রুসহ ভারতীয় জাহাজ ‘এপামিনোনডেস’ আটক।
- হরমুজ প্রণালীতে জাহাজের ওপর গুলিবর্ষণের ফলে নাবিকদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও প্রাণ বাঁচানোর লড়াই।
- বন্দি নাবিকদের মধ্যে রাজস্থানের সঞ্জয় মাহারসহ ভারতের একাধিক নাগরিকের অবস্থান নিশ্চিত।
- ভারত সরকারের হস্তক্ষেপ ও বন্দি নাবিকদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছে পরিবার।
