লেটেস্ট নিউজ

হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজে ক্রমাগত হামলা ও ভারতীয় নাবিকের মৃত্যুতে চরম উদ্বেগ নয়াদিল্লির – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তাল পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর ঘনঘন হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারত। এই সংকটময় মুহূর্তে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে জরুরি আলোচনা চালিয়েছেন। মূলত আন্তর্জাতিক জলপথে জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখা এবং ভারতের জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতেই এই কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক সাংবাদিক সম্মেলনে জানান, গত কয়েক দিনে দুই দেশের বিদেশমন্ত্রীর মধ্যে তিন দফা কথা হয়েছে। আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল সমুদ্রপথে নিরাপত্তা এবং ভারতীয় স্বার্থ রক্ষা। বিশেষ করে ওমান ও ইরানের মধ্যবর্তী কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে যেভাবে হামলা বাড়ছে, তাতে বিশ্ব বাণিজ্যের পাশাপাশি ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বর্তমানে ইরানে প্রায় ৯,০০০ ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন, যাদের মধ্যে বড় একটি অংশ ছাত্র, নাবিক এবং ব্যবসায়ী। বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। অনেক ভারতীয় ইতিমধ্যেই প্রতিবেশী দেশ আজারবাইজান বা আর্মেনিয়া হয়ে দেশে ফিরতে শুরু করেছেন। তেহরানে থাকা ছাত্র ও তীর্থযাত্রীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং ভারতীয় দূতাবাস তাদের সার্বক্ষণিক সহায়তা প্রদান করছে।

পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে ইরাকের বাসরা বন্দরের কাছে একটি তেল ট্যাঙ্কারে ভয়াবহ হামলার ঘটনায়। মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের পতাকাধারী ‘সেফসি বিষ্ণু’ নামের ওই মার্কিন মালিকানাধীন জাহাজে হামলায় এক ভারতীয় ক্রু সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। গত ১১ মার্চের এই ঘটনার পর জাহাজে থাকা বাকি ১৫ জন ভারতীয়কে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকা ও ইজরায়েলের সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানের পর থেকেই এই উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে।

ভারত সরকার এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্য করে এই ধরণের আক্রমণ আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী। ইতিপূর্বেও ‘মায়ুরি নারি’ নামক একটি জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে। একের পর এক প্রাণহানি ও হামলার তীব্রতা বাড়তে থাকায় ভারত গোটা পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে এবং নাগরিকদের দূতাবাসের নির্দেশিকা মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *