“হস্টেল থেকে তুলে নেব, গণশক্তি বিক্রি করুন!” বিধানসভায় বামেদের চরম আক্রমণ শুভেন্দুর – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
September 11, 20269:33 am
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিশেষ অধিবেশনে বিশ্ববিদ্যালয়গুলির শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী বদলি সংক্রান্ত নতুন সংশোধনী বিলকে কেন্দ্র করে চরম রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হলো। বিল পেশের পর থেকেই শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে তীব্র বাকযুদ্ধ শুরু হয় এবং কক্ষ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত ভোটাভুটির মাধ্যমে ১৭১টি ভোটের সমর্থনে পাশ হয়ে যায় বহুচর্চিত ‘আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় কর্মী ও শিক্ষক বদলি (সংশোধনী) বিল ২০২৬’।
বিধানসভায় তীব্র বাকযুদ্ধ ও আক্রমণ
অধিবেশন চলাকালীন ডোমকলের বাম বিধায়ক মুস্তাফিজুর রহমান রানা বিলটির তীব্র বিরোধিতা করে অভিযোগ তোলেন যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বশাসন খর্ব করে এবং নিয়োগের শর্ত ভেঙে এই বিল আনা হয়েছে, যা আদতে শিক্ষাঙ্গনের গৈরিকীকরণের চেষ্টা।
এই মন্তব্যের জবাবে সুর চড়ান বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। অতীতে বাম আমলের দুর্নীতি ও তোষণের রাজনীতির অভিযোগ তুলে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, শিক্ষাঙ্গনে ‘রেড স্যালুট’ কিংবা ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি’-র মতো স্লোগান দেওয়া হলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। কঠোর হুঁশিয়ারির পাশাপাশি কটাক্ষ করে তিনি বলেন, সমস্যা হলে চাকরি ছেড়ে কাঁধে ঝোলা ব্যাগ নিয়ে ‘গণশক্তি’ বিক্রি করা যেতে পারে।
বিরোধীদের ওয়াকআউট ও সরকারি যুক্তি
অন্যদিকে, এই বিলের আড়ালে প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে শিক্ষাক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চালানো হতে পারে—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করে প্রতিবাদে বিধানসভা কক্ষ থেকে ওয়াক-আউট করেন বিরোধীদের একাংশ (যেমন তৃণমূল নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় সহ অন্যান্যরা)।
তবে সরকারের তরফে যুক্তি দেওয়া হয়েছে, শিক্ষাঙ্গনে বছরের পর বছর ধরে চলা একচ্ছত্র আধিপত্য ও অচলাবস্থা ভাঙতেই এই বদলি নীতি অত্যন্ত জরুরি ছিল। শিক্ষক বদলি সংক্রান্ত এই নয়া আইন কার্যকর হওয়ার পর রাজ্যের উচ্চশিক্ষা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।
