হাইপ্রোফাইলদের ‘হানি ট্র্যাপ’! ধর্ষণের মিথ্যে মামলা দিয়ে তোলাবাজি, ধৃত শহরের তরুণী – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
September 20, 202610:10 am
কলকাতা: প্রথমে সোশ্যাল মিডিয়া বা অন্য সূত্রে বেছে নেওয়া হতো ‘হাইপ্রোফাইল টার্গেট’। তারপর গড়ে তোলা হতো নিবিড় পরিচিতি ও ঘনিষ্ঠতা। সুযোগ বুঝে সংগ্রহ করা হতো ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি ও গোপন তথ্য। আর তার পরেই শুরু হতো আসল খোলস উন্মোচন—মোটা অঙ্কের তোলাবাজি! টাকা না দিলেই মিলত ‘ধর্ষণ’ বা ‘শ্লীলতাহানি’র ভুয়ো মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি।
কলকাতায় চলা এই চাঞ্চল্যকর ‘হানি ট্র্যাপ’ ও ব্ল্যাকমেইলিং চক্রের মূল মাথা রাগেশ্রী গোপ নামে এক তরুণীকে অবশেষে গ্রেপ্তার করেছে পঞ্চসায়র থানার পুলিশ। আলিপুর আদালতের নির্দেশে তদন্তে নেমে সন্তোষপুর ইস্ট রোড এলাকা থেকে শুক্রবার বিকেলে তাঁকে ধরা হয়। ধৃতকে আদালতে তোলা হলে আগামী ১ অক্টোবর পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।
কীভাবে চলত এই ব্ল্যাকমেইলিং চক্র? পুলিশ ও তদন্তকারীদের সূত্রের খবর, পেশাদার ও স্বনামধন্য ব্যক্তিদের টার্গেট করাই ছিল রাগেশ্রীর প্রধান পেশা।
- প্রথমে টার্গেটের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও পরে ব্যক্তিগত সম্পর্ক তৈরি করতেন।
- ব্ল্যাকমেলের শিকার ব্যক্তিদের কাছে দাবি করা হতো মোটা অঙ্কের টাকা।
- দাবি না মানলে ঠুকে দেওয়া হতো ধর্ষণের মিথ্যে এফআইআর।
পুরুষ অধিকার রক্ষা সংস্থাগুলির দাবি, এখনও পর্যন্ত এই তরুণীর বিরুদ্ধে প্রায় ১৪ জন ব্যক্তিকে একইভাবে মিথ্যে মামলায় ফাঁসানোর তথ্য মিলেছে। সার্ভে পার্ক, পঞ্চসায়র, রবীন্দ্র সরোবর, আনন্দপুর ও যাদবপুরসহ শহরের একাধিক থানায় তাঁর নামে ইতিমধ্যেই ১১টি অভিযোগ নথিভুক্ত রয়েছে।
ফাঁদে আন্তর্জাতিক টেনিস তারকা থেকে বর্ষীয়ান চিকিৎসক পঞ্চসায়র থানার মামলায় সরকারি কৌঁসুলি স্বাগতা বসু আদালতে জানান, এই প্রতারণার পেছনে বড় কোনো সুসংগঠিত চক্র এবং রাজনৈতিক প্রভাবশালী যোগ থাকতে পারে। অভিযুক্ত তরুণীর পাতার ফাঁদে পা দিয়ে ব্ল্যাকমেলের শিকার হয়েছেন আন্তর্জাতিক মানের টেনিস তারকা থেকে শুরু করে শহরের বিশিষ্ট চিকিৎসকরাও।
যেভাবে পুলিশের জালে তরুণী অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ধৃত রাগেশ্রী এক বর্ষীয়ান চিকিৎসকের প্রাক্তন পেশেন্ট ছিলেন। গত ডিসেম্বর মাস থেকে ওই চিকিৎসক ও তাঁর পরিবারকে লাগাতার আর্থিক দাবি নিয়ে ব্ল্যাকমেল ও হুমকি দিতে থাকেন তিনি। শেষমেশ বাধ্য হয়ে চিকিৎসকের স্ত্রী আলিপুর আদালতের দ্বারস্থ হন। আদালতের নির্দেশে গত ৯ এপ্রিল পঞ্চসায়র থানা মামলা রুজু করে। মোবাইল কল রেকর্ড ও ডিজিটাল তথ্য খতিয়ে দেখে নিশ্চিত হওয়ার পর শুক্রবার তাঁকে বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এই ঘটনার পর সমাজকর্মী দীপিকানারায়ণ ভরদ্বাজ জানান, ভুক্তভোগীদের নিয়ে তিনি ইতিমধ্যেই কলকাতা পুলিশ কমিশনারের কাছে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠনের আর্জি জানিয়েছেন। পাশাপাশি, এই ধরণের ব্ল্যাকমেলের শিকার হলে ভয় না পেয়ে সরাসরি পুলিশের কাছে মুখ খোলার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
