হাতে খালি জলের পাত্র, চোখে হাজারো বিষাদ; গাজার এই ছোট্ট শিশুর ভিডিও কাঁদিয়ে দিচ্ছে বিশ্বকে!

হাতে খালি জলের পাত্র, চোখে হাজারো বিষাদ; গাজার এই ছোট্ট শিশুর ভিডিও কাঁদিয়ে দিচ্ছে বিশ্বকে!

ধ্বংসস্তূপ আর তাবুশহরের মাঝখান দিয়ে জলের খালি গ্যালন হাতে হেঁটে যাচ্ছে একরত্তি এক শিশু। তার চোখে শৈশবের সারল্য নেই, বরং সেখানে জমাট বেঁধেছে বয়সের চেয়েও ভারী এক বিষাদ। সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই দৃশ্য ফিলিস্তিনের গাজা ভূখণ্ডের বর্তমান মানবিক বিপর্যয়ের এক চরম বাস্তব তুলে ধরেছে। যেখানে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের ফলে ৭০ শতাংশের বেশি ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে এবং ৯০ শতাংশের বেশি জলস্তর এখন দূষিত। পানীয় জলের সামান্য সংস্থানের জন্য এই শিশুদেরই প্রতিদিন দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আসাম লড়াই চালাতে হচ্ছে।

বিপর্যস্ত পরিকাঠামো ও অন্ধকার ভবিষ্যৎ

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুদ্ধে নিহতের সংখ্যা ৪২ হাজার ছাড়িয়েছে, যার মধ্যে ১৬ হাজারেরও বেশি শিশু। বসতি এলাকাগুলো এখন স্রেফ কংক্রিটের স্তূপ, যেখানে প্রায় ৮৭ শতাংশ স্কুল ভবনই ধ্বংস হয়ে গেছে। শিক্ষা ও চিকিৎসার নূন্যতম অধিকার হারিয়ে এক অন্ধকার ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে পুরো একটি প্রজন্ম। এখানকার ৩৬টি হাসপাতালের মধ্যে মাত্র ১৭টি বর্তমানে ধুঁকতে ধুঁকতে কোনোমতে পরিষেবা দেওয়ার চেষ্টা করছে, যা বিপুল সংখ্যক আহতের তুলনায় একেবারেই নগণ্য।

অর্থনৈতিক পতন ও দুর্ভিক্ষের হাতছানি

টানা আক্রমণে গাজার জিডিপি বা মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ৮১ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে, যা অঞ্চলটির অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছে। শিল্প ও বাণিজ্যের পাশাপাশি কৃষিক্ষেত্রেও নেমে এসেছে চরম বিপর্যয়; প্রায় ৬৮ শতাংশ চাষযোগ্য জমি এখন পুরোপুরি অনাবাদী। কর্মসংস্থান হারিয়ে বেকার হয়ে পড়েছেন লক্ষ লক্ষ মানুষ। রাস্তাঘাটের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণে ত্রাণ পৌঁছাতেও বাধা সৃষ্টি হচ্ছে, যার ফলে আসন্ন দিনগুলোতে সেখানে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এক ঝলকে

  • গাজায় হামলায় ১৬,৭৬৫ জন শিশুসহ মোট নিহতের সংখ্যা ৪২ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।
  • অঞ্চলের প্রায় ৮৭ শতাংশ স্কুল এবং ৭০ শতাংশ ঘরবাড়ি এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত।
  • পানীয় জলের সংকট চরমে, ৯৫ শতাংশের বেশি জলস্তর দূষিত হয়ে পড়েছে।
  • বেকারত্ব ও কৃষিজমি নষ্ট হওয়ায় গাজার অর্থনীতিতে ৮১ শতাংশ ধস নেমেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *