হাতে ঝাড়ু, চোখে IAS হওয়ার স্বপ্ন! গুজরাটে শ্রমিকের কাজ করেই উচ্চ মাধ্যমিকে নবম কালনার সাগর – এবেলা

হাতে ঝাড়ু, চোখে IAS হওয়ার স্বপ্ন! গুজরাটে শ্রমিকের কাজ করেই উচ্চ মাধ্যমিকে নবম কালনার সাগর – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

২০২৬ সালের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। এ বছর পাশের হার ৯১.২৩ শতাংশ। এবারের ফলাফলে মেধা তালিকার শীর্ষে জায়গা করে নিয়েছেন নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনের মেধাবী ছাত্র আদৃত পাল, যাঁর প্রাপ্ত নম্বর ৪৯৬। তবে সাফল্যের এই ভিড়ে গোটা রাজ্যের নজর কেড়ে নিয়েছেন নবম স্থানাধিকারী সাগর মন্ডল। অভাবের তাড়নায় বর্তমানে গুজরাটে শ্রমিকের কাজ করা এই কিশোরের জীবনসংগ্রাম যেন হার মানায় সিনেমার চিত্রনাট্যকেও।

মেধা তালিকায় দাপট জেলাগুলোর

সংসদ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এ বছর প্রথম দশের মেধা তালিকায় স্থান পেয়েছেন মোট ৬৪ জন শিক্ষার্থী। পাশের হারের নিরিখে জেলাভিত্তিক তালিকায় শীর্ষে রয়েছে পূর্ব মেদিনীপুর। পরবর্তী স্থানগুলোতে রয়েছে হাওড়া, উত্তর ২৪ পরগনা, হুগলি ও নদিয়া। কলকাতা সপ্তম স্থানে থাকলেও পাহাড়ের জেলা দার্জিলিং সেরা দশে নিজের জায়গা ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনের আদৃত পাল ৯৯.২ শতাংশ নম্বর পেয়ে রাজ্যে সম্ভাব্য প্রথম হয়ে মিশনের গৌরব বৃদ্ধি করেছেন।

শ্রমিক থেকে মেধা তালিকায়: সাগরের আসাম লড়াই

কালনা মহারাজা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র সাগর মন্ডল ৫০০-র মধ্যে অভাবনীয় নম্বর পেয়ে নবম স্থান অধিকার করেছেন। নদীয়ার শান্তিপুরের নৃসিংহপুর এলাকার এই বাসিন্দা পরীক্ষার পর আর বাড়িতে বসে থাকেননি। উচ্চশিক্ষার খরচ জোগাতে বাবার সঙ্গে পাড়ি দিয়েছেন গুজরাটে। সেখানে একটি হোটেলে ঝাড়ু দেওয়ার কাজ করছেন তিনি। মেধা তালিকায় নাম আসার খবর যখন পৌঁছায়, তখনও তাঁর হাতে কাজের সরঞ্জাম। সাগর জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে আইএএস অফিসার হয়ে দেশের সেবা করতে চান তিনি, আর সেই স্বপ্নপূরণের রসদ জোগাতেই এই কঠিন পরিশ্রম।

সাফল্যের নেপথ্যে দারিদ্র ও জেদ

সাগরের এই সাফল্য কেবল ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং প্রতিকূল পরিস্থিতির বিরুদ্ধে এক চরম প্রতিবাদ। অভাবের কারণে ভিনরাজ্যে শ্রমিকের কাজ করতে বাধ্য হওয়া একজন ছাত্রের মেধা তালিকায় স্থান পাওয়া রাজ্যের শিক্ষা মহলে সাড়া ফেলে দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সাগরের এই লড়াই অন্যান্য পিছিয়ে পড়া পড়ুয়াদের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। তবে উচ্চশিক্ষার পথে আর্থিক প্রতিবন্ধকতা কীভাবে দূর হবে, সেটাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। আপাতত গুজরাটের সেই হোটেল চত্বরেই আনন্দাশ্রু আর নতুন স্বপ্নের বুনন চলছে সাগর ও তাঁর পরিবারের মধ্যে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *