হায়দরাবাদের রাস্তায় ‘চড়-কাণ্ড’! মদ্যপ চালককে পুলিশের থাপ্পড়, ভিডিও ভাইরাল হতেই তোলপাড় নেটদুনিয়া

হায়দরাবাদের রাস্তায় ‘চড়-কাণ্ড’! মদ্যপ চালককে পুলিশের থাপ্পড়, ভিডিও ভাইরাল হতেই তোলপাড় নেটদুনিয়া

নিজস্ব প্রতিবেদন, হায়দরাবাদ: মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালনা বিরোধী বিশেষ অভিযানে নেমে ফের বিতর্কের কেন্দ্রে হায়দরাবাদ ট্রাফিক পুলিশ। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিও ক্লিপ ঘিরে এখন তোলপাড় নেটদুনিয়া। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, ব্রেথ অ্যানালাইজার পরীক্ষার সময় চালকের সঙ্গে তর্কের এক পর্যায়ে মেজাজ হারিয়ে তাঁকে সজোরে চড় মারছেন এক ট্রাফিক কনস্টেবল।

ঠিক কী ঘটেছিল?

রাতের হায়দরাবাদে মদ্যপ চালকদের ধরার জন্য পুলিশের রুটিন তল্লাশি চলছিল। ব্রেথ অ্যানালাইজার যন্ত্রে ফুঁ দেওয়ার জন্য ওই চালককে বারবার অনুরোধ করছিলেন পুলিশকর্মীরা। অভিযোগ, ওই চালক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অসহযোগিতা করছিলেন এবং পরীক্ষার প্রক্রিয়াটি দীর্ঘায়িত করছিলেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতেই ধৈর্য হারান কর্তব্যরত কনস্টেবল, আর মুহূর্তের মধ্যে ঘটে যায় সেই অনভিপ্রেত ঘটনা—সরাসরি চালকের গালে বসিয়ে দেওয়া হয় চড়।

আইন না কি পুলিশি দাদাগিরি?

এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই জনমত দুই ভাগে বিভক্ত:

  • সমালোচকদের বক্তব্য: আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্য হিসেবে কারোর গায়ে হাত তোলার অধিকার কি পুলিশের আছে? সমালোচকদের মতে, চালক দোষী কি না তা প্রমাণ করার জন্য আইনত নির্দিষ্ট পদ্ধতি আছে, মারধর কোনোভাবেই সমাধান হতে পারে না। এই আচরণ পুলিশের ভাবমূর্তিকে কালিমালিপ্ত করেছে।
  • পুলিশের সপক্ষে যুক্তি: আবার নেটিজেনদের একাংশ মনে করছেন, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো মানে অন্যের জীবনের সঙ্গে খেলা করা। অসহযোগিতা করে চালকই পরিস্থিতিকে হাতের বাইরে নিয়ে গিয়েছিলেন। পুলিশের অমানুষিক ধৈর্যের পরীক্ষা নেওয়া কি সবসময় কাম্য? এমনটাই প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই।

এখন পর্যন্ত হায়দরাবাদ পুলিশ প্রশাসনের তরফে এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি আসেনি। তবে রাজপথে পুলিশি আচরণের সীমা কোথায় এবং জননিরাপত্তার খাতিরে কতটা কঠোর হওয়া যায়—এই ভিডিও সেই তপ্ত বিতর্ককে আবারও উসকে দিল। পুলিশের এই ‘চড়-কাণ্ড’ কি শাস্তিমূলক কোনো ব্যবস্থা ডেকে আনবে, নাকি ধামাচাপা পড়ে যাবে—সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *