‘হারলেই জ্বলবে ঘরবাড়ি!’ ফলতায় তৃণমূলের বিরুদ্ধে হুমকির অভিযোগে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ গ্রামবাসীর

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার প্রাক্কালে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফাল্টা বিধানসভা এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। শনিবার এলাকায় বিজেপি জয়লাভ করলে সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন কয়েকশ স্থানীয় বাসিন্দা। মূলত তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে এই ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ এনে তারা রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় সিআরপিএফ (CRPF) এবং র্যাফ (RAF) মোতায়েন করা হয়েছে।
আতঙ্কে সাধারণ ভোটার ও নিরাপত্তাহীনতা
বিক্ষোভরত স্থানীয় নারীদের অভিযোগ, এলাকায় শাসকদলের পক্ষ থেকে লাগাতার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এমনকি গ্রামবাসীর দাবি অনুযায়ী, স্থানীয় এক চৌকিদার সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে ভোটের ফল নির্দিষ্ট দলের বিপক্ষে গেলে এলাকায় রক্তপাত ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটবে। অতীতে ভোট দিলেও কেন তাদের ওপর এমন আক্রমণাত্মক আচরণ করা হচ্ছে, তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ। তারা অবিলম্বে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছেন।
নির্বাচন কমিশনের পদক্ষেপ ও কড়া নিরাপত্তা
ফাল্টায় উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ায় একটি সাঁজোয়া যানসহ কেন্দ্রীয় বাহিনীর টহলদারি বাড়ানো হয়েছে। এই এলাকায় পুনরায় ভোটগ্রহণ হবে কি না, সে বিষয়ে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল জানিয়েছেন যে জেনারেল অবজার্ভারের রিপোর্টের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। উল্লেখ্য, ফাল্টায় যখন এই অস্থিরতা চলছে, ঠিক তখনই পাশের ডায়মন্ড হারবার ও মগরাহাট পশ্চিমের ১৫টি বুথে পুনর্নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।
তৃণমূলের জাহাঙ্গীর খান এবং বিজেপির দেবাংশু পান্ডার মতো হেভিওয়েট প্রার্থীদের এই লড়াইয়ে এখন প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে অশান্তির আশঙ্কা। গ্রামবাসীর এই বিক্ষোভ ও হুমকির ঘটনা আগামী ৪ মে ভোট গণনার দিনে বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রশাসন আপাতত শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।
এক ঝলকে
- ফাল্টায় বিজেপি জিতলে ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়ার হুমকির অভিযোগে স্থানীয়দের পথ অবরোধ ও বিক্ষোভ।
- তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে হামলার আশঙ্কায় স্থানীয় এক চৌকিদারের গ্রেপ্তারের দাবি।
- আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এলাকায় সিআরপিএফ ও র্যাফ মোতায়েন করে কড়া নজরদারি।
- নির্বাচন কমিশন অবজার্ভারের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে পুনর্নির্বাচনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।
