হারিয়ে যাওয়া শৈশব কি কোনো বড় চক্রের শিকার? আপনার সন্তানকে সুরক্ষিত রাখতে আজই জানুন এই চাঞ্চল্যকর তথ্য – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
রাজধানীর বুকে একের পর এক শিশু নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা কি নিছকই বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা, নাকি এর নেপথ্যে কাজ করছে কোনো ভয়ঙ্কর নেটওয়ার্ক? সম্প্রতি দেশের সর্বোচ্চ আদালত Supreme \titleonly কোর্ট এই বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানতে চেয়েছে, নিখোঁজ শিশুদের পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ চক্র বা নেটওয়ার্ক সক্রিয় কি না। বর্তমান সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া নানা খবরের ভিড়ে প্রকৃত সত্য এবং অভিভাবক হিসেবে আপনার করণীয় নিয়ে উঠে এসেছে কিছু চাঞ্চল্যকর দিক।
বিপন্ন শৈশব ও নেপথ্যের কালো হাত
দিল্লি তথা দেশের বড় শহরগুলোতে শিশু নিখোঁজের ঘটনা একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং জটিল সামাজিক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পুলিশি তদন্ত এবং সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, এর পেছনে রয়েছে হরেক রকমের কারণ। পাচারকারী চক্রের হাত থেকে শুরু করে শিশুশ্রম, জোরপূর্বক ভিক্ষাবৃত্তি, এমনকি সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে প্রলোভন দেখিয়ে অপহরণের মতো ঘটনাও ঘটছে প্রতিনিয়ত। অনেক ক্ষেত্রে ভালো কাজ বা গ্ল্যামার দুনিয়ায় সুযোগ করে দেওয়ার নাম করে শিশুদের ভুলিয়ে নিয়ে গিয়ে শোষণের অন্ধকারে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।
কেন ঘর ছাড়ছে শিশুরা?
শুধুমাত্র বাইরের বিপদ নয়, অনেক সময় ঘরের পরিবেশও শিশুদের বাইরে ঠেলে দিচ্ছে। পারিবারিক অশান্তি, পড়াশোনার মাত্রাতিরিক্ত চাপ কিংবা তুচ্ছ কারণে বাবা-মায়ের বকুনি সহ্য করতে না পেরে অনেক কিশোর-কিশোরী আবেগের বশবর্তী হয়ে ঘর ছাড়ছে। এই সুযোগটিই লুফে নেয় ওত পেতে থাকা অপরাধী চক্রগুলো। তাই বিশেষজ্ঞদের মতে, বাড়ির পরিবেশ হওয়া উচিত ভালোবাসা ও আস্থার।
রক্ষাকর্তা যখন পুলিশ ও বিশেষ অভিযান
নিখোঁজ শিশুদের উদ্ধার করতে প্রশাসন বসে নেই। দিল্লি পুলিশ ‘অপারেশন মুসকান’ এবং ‘অপারেশন মিলাপ’-এর মতো বিশেষ কর্মসূচি চালিয়ে গত কয়েক বছরে হাজার হাজার শিশুকে তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে। রেল স্টেশন, বাস টার্মিনাল এবং জনবহুল এলাকায় নজরদারি কয়েক গুণ বাড়ানো হয়েছে। গঠন করা হয়েছে বিশেষ কিশোর ইউনিট, যারা শুধুমাত্র শিশুদের সংক্রান্ত অপরাধ নিয়ে কাজ করে।
আপনার দায়িত্বই সেরা সুরক্ষা
পুলিশ তার কাজ করলেও, নিজের সন্তানের নিরাপত্তার প্রাথমিক চাবিকাঠি কিন্তু আপনার হাতেই। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া সব খবর বিশ্বাস না করে যেমন সতর্ক থাকতে হবে, তেমনি সন্তানের গতিবিধির ওপর নজর রাখাও জরুরি। এটি কেবল আইন-শৃঙ্খলার বিষয় নয়, বরং একটি সামাজিক দায়িত্ব। মনে রাখবেন, আজকের সুরক্ষিত শিশুরাই আগামী দিনের সমৃদ্ধ ভারতের কারিগর। তাই সরকার, প্রশাসন এবং পরিবার—সবাইকে একজোট হয়ে এই অন্ধকার রুখতে হবে।

