হিন্দু হোমল্যান্ড রক্ষায় কড়া মুখ্যমন্ত্রী! আসছে জমি ও লাভ জেহাদ বিরোধী নতুন আইন – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জন্মবার্ষিকী এবং ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০তম বর্ষপূর্তি উদযাপনে কড়া বার্তা দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ‘এক দেশ, এক প্রধান, এক বিধান, এক নিশান’ স্লোগানকে পাথেয় করে বাংলায় অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকরের পাশাপাশি জোরপূর্বক ধর্মান্তকরণ, ‘জমি জেহাদ’ এবং ‘লাভ জেহাদ’-এর বিরুদ্ধে কঠোর আইন আনতে চলেছে রাজ্য সরকার। শুক্রবার রবীন্দ্র সদনের অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে ‘হিন্দু হোমল্যান্ড’ রক্ষার ডাক দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, বাংলার মাটিতে রাষ্ট্রবিরোধীদের কোনও জায়গা নেই।
অনুপ্রবেশ ও নাগরিকত্ব ইস্যুতে কড়া পদক্ষেপ
অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে রাজ্য সরকার যে কড়া অবস্থান নিচ্ছে, তা মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে পরিষ্কার। তিনি জানান, অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হচ্ছে এবং তাদের উৎসস্থলে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। অন্যদিকে, প্রতিবেশী দেশগুলোতে ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার হয়ে যারা ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন, সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন বা সিএএ-এর মাধ্যমে তাদের নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি। সরকারের এই পদক্ষেপগুলি মূলত বিজেপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিরই বাস্তব রূপায়ণ। বিশ্লেষকদের মতে, এর প্রাথমিক লক্ষ্য রাজ্যের জনবিন্যাসে ভারসাম্য আনা এবং সীমান্ত রাজ্যের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাকে আরও সুনিশ্চিত করা।
শ্যামাপ্রসাদের আদর্শে নতুন বাংলার রূপরেখা
মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে আরও স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, চৈতন্যদেব, নেতাজি এবং শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের পবিত্র মাটিতে জাতীয় স্বার্থ পরিপন্থী কোনও কাজ বরদাস্ত করা হবে না। যারা দেশকে অপমান করে বা পহেলগাঁওয়ের মতো সন্ত্রাসবাদী হামলার প্রতিবাদ করে না, বাংলায় তাদের জায়গা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। মূলত রাজ্যের সাংস্কৃতিক ও হিন্দু পরিচিতির সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই সরকারের এই দ্রুত আইনি কাঠামোর সংস্কার। এর পাশাপাশি এ দিন ভবানীপুরে একটি নতুন দলীয় কার্যালয়েরও উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী, যেখান থেকে প্রতিদিন সাধারণ মানুষ পরিষেবা পাবেন বলে তিনি জানিয়েছেন। প্রস্তাবিত এই আইনগুলি কার্যকর হলে রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
