হিমন্তের পুশব্যাক মন্তব্যে তুঙ্গে বিতর্ক, দিল্লিতে কড়া বার্তা দিয়ে ভারতীয় হাইকমিশনারকে তলব করল ঢাকা

ভারত ও বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বরফ যখন ধীরে ধীরে গলতে শুরু করেছে, ঠিক তখনই আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার একটি বিতর্কিত মন্তব্য নতুন করে কূটনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়েছে। অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের ‘রাতের অন্ধকারে’ সীমান্ত পার করে দেওয়ার বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীর প্রকাশ্য স্বীকারোক্তিকে কেন্দ্র করে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। বৃহস্পতিবার ঢাকায় নিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত ভারতীয় হাইকমিশনার পবন বাধেকে তলব করে এই মন্তব্যের আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রক।
বিতর্কের মূলে হিমন্তের স্বীকারোক্তি
একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা দাবি করেন, আসামের কর্তৃপক্ষ সন্দেহভাজন অনুপ্রবেশকারীদের আটক করে আইনি জটিলতা এড়াতে সীমান্তের অস্পষ্ট পথ দিয়ে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর মতে, বিদেশ মন্ত্রকের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া দীর্ঘমেয়াদী এবং তাতে বাংলাদেশের সম্মতির ওপর নির্ভর করতে হয়। তাই যেখানে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর নজরদারি কিছুটা শিথিল, সেই সব জায়গা দিয়ে রাতের অন্ধকারে পুশব্যাক করা হচ্ছে। হিমন্তের দাবি অনুযায়ী, সরকারিভাবে ১,৪০০ জনকে ফেরত পাঠানো হলেও প্রকৃত সংখ্যাটি কয়েক হাজার হতে পারে।
কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর প্রভাব
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এই মন্তব্যকে ‘অবমাননাকর’ এবং দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকর বলে অভিহিত করা হয়েছে। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গত ফেব্রুয়ারি মাসে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর দুই দেশের মধ্যে সম্প্রতি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক এবং জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা গিয়েছিল। পর্যবেক্ষকদের মতে, হিমন্তের এই মন্তব্য সেই স্বাভাবিক হওয়ার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে এবং সীমান্তে উত্তেজনা বৃদ্ধি করতে পারে। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক এখনও এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি।
এক ঝলকে
- আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার ‘রাতের অন্ধকারে পুশব্যাক’ মন্তব্যে ভারত-বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্কে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
- প্রতিবাদের অংশ হিসেবে ঢাকায় নিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত ভারতীয় হাইকমিশনার পবন বাধেকে তলব করেছে বাংলাদেশ সরকার।
- হিমন্ত বিশ্ব শর্মা আইনি প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে হাজার হাজার মানুষকে অনানুষ্ঠানিকভাবে সীমান্ত পার করে দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন।
- বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন পরিস্থিতির পর নতুন সরকারের সাথে ভারতের সম্পর্ক উন্নয়নের পথে এই ঘটনা বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
