হুগলিতে তীব্র উত্তেজনা, রাস্তা আটকে বিক্ষোভ ও পুলিশকে বাধার অভিযোগে গ্রেপ্তার অসিত মজুমদারসহ ১০ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
সোনারপুরে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার প্রতিবাদে রাজ্য রাজনীতি এখন উত্তাল। সেই ঘটনার রেশ ধরে হুগলির পিপুলপাতিতে পথ অবরোধ এবং পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার হলেন চুঁচুড়ার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক অসিত মজুমদারসহ ১০ জন দলীয় নেতাকর্মী। ধৃতদের মধ্যে চুঁচুড়া পুরসভার চেয়ারম্যান সৌমিত্র ঘোষ এবং ভাইস চেয়ারম্যান পার্থ সাহাও রয়েছেন। চুঁচুড়া ইমামবাড়া সদর হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর ধৃতদের আদালতে তোলার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ও পুলিশের পদক্ষেপ
শনিবার সোনারপুরে যাওয়ার পথে নজিরবিহীন জনরোষের মুখে পড়েন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁকে লক্ষ্য করে জুতো, ডিম ও ইটের টুকরো ছোঁড়া হয় এবং শারীরিক নিগ্রহের অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনার প্রতিবাদে শনিবারই হুগলির পিপুলপাতিতে তীব্র বিক্ষোভ ও পথ অবরোধ শুরু করেন প্রাক্তন বিধায়ক অসিত মজুমদারের অনুগামীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অবরোধ তোলার চেষ্টা করলে তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে চরম কথা কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। এর পরেই রবিবার সকালে সরকারি কাজে বাধা ও পুলিশকে হেনস্থার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে চুঁচুড়া থানার পুলিশ প্রাক্তন বিধায়কসহ ১০ জনকে গ্রেপ্তার করে।
রাজনৈতিক প্রভাব ও বর্তমান পরিস্থিতি
এই গ্রেপ্তারিকে কেন্দ্র করে হুগলি জেলা তথা গোটা রাজ্যে রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে উঠেছে। একদিকে শাসক দল এই গ্রেপ্তারির তীব্র নিন্দা করে প্রতিবাদ আন্দোলনের ঝাঁজ বাড়ানোর হুঁশিয়ারি দিচ্ছে, অন্যদিকে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে আইনশৃঙ্খলার স্বার্থেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলা এবং পরবর্তী সময়ে তৃণমূলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের এই গণ-গ্রেপ্তারির ঘটনা আগামী দিনগুলিতে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার ওপর বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
