হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীদের জন্য বড় ধাক্কা: টাকা দিলেই মিলবে পরিষেবা? – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
স্মার্টফোন থাকলে সেখানে হোয়াটসঅ্যাপ থাকবে না, এমনটা এখন ভাবাই যায় না। অত্যন্ত অল্প সময়ের মধ্যে অসংখ্য পরিবর্তন ও আপডেটের মাধ্যমে এই অ্যাপটি আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। মেসেজিং, ভয়েস কলিং, ভিডিও কলিং থেকে শুরু করে গ্রুপ কলিং—ব্যবহারকারীদের সুবিধার্থে নিয়মিত নিত্যনতুন ফিচার নিয়ে এসেছে এই প্ল্যাটফর্ম। তবে এবার বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি গ্রাহকের প্রিয় এই মেসেজিং অ্যাপ ‘পেইড সাবস্ক্রিপশন’ মডেল চালু করতে পারে বলে জল্পনা শুরু হয়েছে। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভবিষ্যতে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার চালিয়ে যেতে পকেট থেকে টাকা খসাতে হতে পারে সাধারণ মানুষকে। বিভিন্ন রিপোর্ট দাবি করছে, কো ম্পা নি বর্তমানে তাদের প্ল্যাটফর্মে একটি ‘বিজ্ঞাপনমুক্ত’ (Ad-Free) সাবস্ক্রিপশন মডেলের পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছে।
অ্যাপ কোডে নতুন সংকেত
সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, হোয়াটসঅ্যাপের সর্বশেষ ভার্সন ২.২৬.৩.৯-এর কোড বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে যে, স্ট্যাটাস (Status) এবং চ্যানেলস (Channels) সেকশন থেকে বিজ্ঞাপন সরানোর জন্য একটি বিশেষ সাবস্ক্রিপশন মডেলের স্ট্রিং যুক্ত করা হয়েছে। একে ভবিষ্যতের পেইড প্ল্যান প্রবর্তনের প্রাথমিক সংকেত হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে এই বিষয়ে এখন পর্যন্ত হোয়াটসঅ্যাপ বা তার মূল সংস্থা মেটা (Meta)-র পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি।
বিজ্ঞাপনের পরীক্ষা ও বিতর্ক
উল্লেখ্য যে, গত বছরও হোয়াটসঅ্যাপ তাদের স্ট্যাটাস এবং চ্যানেলস বিভাগে পরীক্ষামূলকভাবে বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের চেষ্টা করেছিল। কিন্তু সেই সময় ব্যবহারকারীদের পক্ষ থেকে তীব্র বিরোধিতার সম্মুখীন হতে হয় কো ম্পা নিকে। মূলত ক্লিন ইউজার ইন্টারফেস বা জঞ্জালমুক্ত অভিজ্ঞতার জন্য পরিচিত হোয়াটসঅ্যাপে বিজ্ঞাপনের অনুপ্রবেশ অনেকেই মেনে নিতে পারেননি।
পেইড মডেল নিয়ে ধোঁয়াশা
হোয়াটসঅ্যাপের পেইড সাবস্ক্রিপশন মডেলটি ঠিক কেমন হবে বা এর চার্জ কত হতে পারে, সেই সম্পর্কে বর্তমানে খুব সীমিত তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। কো ম্পা নি যদি সত্যিই এই পরিকল্পনা কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেয়, তবে আগামী দিনে এর পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা সামনে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, যারা বিজ্ঞাপনহীন প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতা চাইবেন, কেবল তাদের জন্যই এই অর্থের বিনিময়ে পরিষেবা চালুর কথা ভাবা হচ্ছে।
হোয়াটসঅ্যাপের যাত্রাপথ
২০০৯ সালে জান কুম এবং ব্রায়ান অ্যাক্টন হোয়াটসঅ্যাপ প্রতিষ্ঠা করেন। ২০১০ সালে এটি ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং পরিষেবা শুরু করে এবং ২০১১ সালে যুক্ত হয় গ্রুপ চ্যাট ফিচার। অ্যান্ড্রয়েড এবং আইওএস প্ল্যাটফর্মে অভাবনীয় জনপ্রিয়তার পর ২০১৪ সালে ফেসবুক (বর্তমানে মেটা) ১৯ বিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে এই অ্যাপটি কিনে নেয়। বর্তমানে ভারতসহ গোটা বিশ্বে সবথেকে জনপ্রিয় এবং বহুল ব্যবহৃত মেসেজিং অ্যাপ হিসেবে নিজের আধিপত্য বজায় রেখেছে হোয়াটসঅ্যাপ।

