১০৩ ডিগ্রি জ্বরেও অচৈতন্য অক্ষয় কুমার! বৈষ্ণোদেবীতে মর্মান্তিক দুর্ঘটনার কবলে অভিনেতা?

১০৩ ডিগ্রি জ্বরেও অচৈতন্য অক্ষয় কুমার! বৈষ্ণোদেবীতে মর্মান্তিক দুর্ঘটনার কবলে অভিনেতা?

বৈষ্ণোদেবীতে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরেছিলেন অক্ষয় কুমার! প্রকাশ্যে এল অভিনেতার সেই বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতার কথা

বলিউডের ‘ফিটনেস আইকন’ হিসেবে পরিচিত অক্ষয় কুমার। ষাট ছুঁইছুঁই বয়সেও তাঁর স্ট্যামিনা এবং অ্যাকশন পারফরম্যান্স তরুণ প্রজন্মকে টেক্কা দেয়। নিয়মমাফিক জীবনযাপন এবং কড়া ডায়েট মেনে চলার জন্য পরিচিত খিলাড়ি অভিনেতা। তবে সুস্থ-সবল শরীরের অধিকারী এই অভিনেতার জীবনেও রয়েছে এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতার স্মৃতি। সম্প্রতি নিজের নতুন সিনেমা ‘ভূত বাংলা’র প্রচার করতে গিয়ে বৈষ্ণোদেবী যাত্রার এক অজানা ও শিহরণ জাগানো ঘটনার কথা শেয়ার করলেন তিনি।

বৈষ্ণোদেবীর সঙ্গে বিশেষ যোগসূত্র

অক্ষয় কুমার বরাবরই গভীর আধ্যাত্মিকতায় বিশ্বাসী। কাজের ফাঁকে সুযোগ পেলেই তিনি মন্দির বা তীর্থস্থানে ছুটে যান। নিজের জন্মেরও এক বিশেষ যোগসূত্র রয়েছে বৈষ্ণোদেবীর সঙ্গে। অভিনেতা জানান, বিয়ের বহু বছর পরেও নিঃসন্তান ছিলেন তাঁর বাবা-মা। সন্তান লাভের আশায় তাঁরা বৈষ্ণোদেবী মন্দিরে মানত করেছিলেন। প্রার্থনার ঠিক এক বছর পরেই অক্ষয়ের জন্ম হয়। তাই এই তীর্থস্থানের সঙ্গে তাঁর পরিবারের এক অমোঘ টান চিরকালই বর্তমান।

কী ঘটেছিল সেই তীর্থযাত্রায়?

ঘটনাটি ১৯৬৯ সালের। তৎকালীন সময়ে ছোট অক্ষয়কে নিয়ে মা-বাবা বৈষ্ণোদেবী ভ্রমণে বেরিয়েছিলেন। কিন্তু সেই আনন্দঘন সফর যে এক দুঃস্বপ্নে পরিণত হবে, তা কেউ ভাবেননি। স্মৃতি হাতড়ে অভিনেতা জানান:

  • তীর্থযাত্রার মাঝপথেই হঠাৎ প্রচণ্ড অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি।
  • জ্বরের তীব্রতা ১০৩ ডিগ্রি থেকে বেড়ে ১০৪ ডিগ্রিতে পৌঁছে যায়।
  • উচ্চ জ্বরে দেহ জ্বলে যাচ্ছিল এবং এক সময় তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।
  • কাটরার তৎকালীন চিকিৎসা পরিকাঠামো উন্নত না হওয়ায় স্থানীয় চিকিৎসকরা দেরি না করে তাঁকে দিল্লিতে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন।

কেন এই ভয়ংকর স্মৃতি এখন প্রাসঙ্গিক?

পর্দায় ভয়ের আবহ তৈরি হোক কিংবা জীবনের কঠিন বাস্তব—অক্ষয় কুমার সবসময়ই খোলামেলা আলোচনা করতে পছন্দ করেন। দীর্ঘ সময় পর জনপ্রিয় পরিচালক প্রিয়দর্শনের সঙ্গে ‘ভূত বাংলা’ সিনেমায় ফিরছেন অক্ষয়। হরর-কমেডি ঘরানার এই সিনেমার প্রচারমূলক অনুষ্ঠানেই নিজের জীবনের ওই বিপন্ন পরিস্থিতির কথা শোনালেন তিনি। ঈশ্বরের আশীর্বাদেই যে তিনি সেযাত্রায় মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছিলেন, সেই কৃতজ্ঞতাবোধই যেন ফুটে উঠল অভিনেতার কথায়।

এক ঝলকে

  • ঘটনা: ছোটবেলায় বৈষ্ণোদেবী যাত্রার সময় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন অক্ষয় কুমার।
  • সময়: ঘটনাটি ১৯৬৯ সালের, যখন অভিনেতা শিশু ছিলেন।
  • শারীরিক অবস্থা: প্রচণ্ড জ্বরে (১০৪ ডিগ্রি) আক্রান্ত হয়ে জ্ঞান হারিয়েছিলেন তিনি।
  • চিকিৎসা: পরিকাঠামোর অভাবে কাটরার চিকিৎসকরা তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দিল্লিতে পাঠানোর পরামর্শ দেন।
  • বর্তমান প্রেক্ষাপট: অভিনেতা বর্তমানে প্রিয়দর্শনের ‘ভূত বাংলা’ সিনেমার প্রচার নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *