১৩ বছরের কিশোরের তৈরি এআই ডাক্তার, শার্ক ট্যাঙ্কে পেল ৬০ লক্ষ টাকার বিনিয়োগ – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
শার্ক ট্যাঙ্ক ইন্ডিয়ার (Shark Tank India) সাম্প্রতিক পর্বে গাজিয়াবাদের ১৩ বছর বয়সী জয়বর্ধন ত্যাগী তার হেলথটেক উদ্ভাবন দিয়ে সবার নজর কেড়েছে। জয়বর্ধনের স্টার্টআপের নাম Neurapex AI, যা কোনো সাধারণ ফিটনেস অ্যাপ বা চ্যাটবট নয়, বরং চিকিৎসকদের জন্য মেডিকেল ডেটা প্রসেস করার একটি উন্নত টুল। সহজ কথায়, এই প্ল্যাটফর্মটি এমআরআই (MRI) স্ক্যান, ল্যাব রিপোর্ট এবং অন্যান্য মেডিকেল ইমেজ বিশ্লেষণ করে নির্দিষ্ট প্যাটার্ন শনাক্ত করতে সক্ষম।
এটি চিকিৎসকদের একটি সুসংগঠিত রিপোর্ট প্রদান করে, যা প্রাথমিক রোগ নির্ণয় এবং কেস বা রোগীর গুরুত্ব নির্ধারণে সাহায্য করে। বর্তমান সময়ে বড় হাসপাতালগুলোতে প্রতিদিন শত শত মেডিকেল ইমেজ আসে। এগুলো ম্যানুয়ালি পরীক্ষা করতে চিকিৎসকদের প্রচুর সময় ব্যয় হয়। এই সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যেই বিশ্বজুড়ে এআই-ভিত্তিক রেডিওলজি টুল তৈরি করা হচ্ছে এবং Neurapex AI সেই পথেই কাজ করছে।
কীভাবে কাজ করে Neurapex AI?
প্রযুক্তিগতভাবে এই প্ল্যাটফর্মটি ইমেজ রিকগনিশন মডেল ব্যবহার করে। অর্থাৎ, এমআরআই বা অন্যান্য মেডিকেল ইমেজ পিক্সেল স্তরে বিশ্লেষণ করে আগে থেকে সংরক্ষিত ডেটার সঙ্গে তুলনা করা হয়। সিস্টেমটি কোনো সম্ভাব্য অস্বাভাবিকতা চিহ্নিত করে দেয়, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সবসময় চিকিৎসকের হাতেই থাকে। এর অর্থ হলো, এটি চিকিৎসককে প্রতিস্থাপন করে না, বরং সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে।
ফান্ডিং এবং বিনিয়োগ
বোট (boAt)-এর প্রতিষ্ঠাতা আমান গুপ্তা এই স্টার্টআপে ৬০ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করেছেন। এর বিনিময়ে তিনি কো ম্পা নির ৫ শতাংশ ইক্যুইটি বা অংশীদারিত্ব পেয়েছেন।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও চ্যালেঞ্জ
শার্করা এই প্রযুক্তির লক্ষ্যকে সঠিক বলে মনে করলেও এটি স্পষ্ট করেছেন যে, ক্লিনিকাল ভ্যালিডেশন এবং হাসপাতালের সঙ্গে ইন্টিগ্রেশন হবে পরবর্তী বড় পদক্ষেপ। স্বাস্থ্যসেবা ক্ষেত্রে যেকোনো এআই টুল তখনই বড় পরিসরে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব, যখন এটি চিকিৎসক এবং মেডিকেল রেগুলেটরি সিস্টেমের অনুমোদন পায়।
বর্তমান ভার্সনটি এখন একটি ওয়েব-ভিত্তিক প্রোটোটাইপ। মেডিকেল ইমেজ আপলোড করে এর ডেমো টেস্টিং করা সম্ভব হলেও সাধারণ মানুষ এটি সরাসরি ব্যবহার করতে পারবেন না। ভবিষ্যতে কো ম্পা নির লক্ষ্য হলো এটিকে হাসপাতাল সিস্টেম এবং ডায়াগনস্টিক ল্যাবগুলোর সঙ্গে যুক্ত করা, যাতে চিকিৎসকরা তাদের দৈনন্দিন কাজে এটি সহজে ব্যবহার করতে পারেন।
সামনে বড় চ্যালেঞ্জও রয়েছে—ডেটা নিরাপত্তা, মেডিকেল প্রাইভেসি, মডেলের নির্ভুলতা এবং রেগুলেটরি কমপ্লায়েন্স। এই বিষয়গুলোই ঠিক করে দেবে Neurapex AI কেবল টিভি শোতেই সীমাবদ্ধ থাকবে নাকি বাস্তব হাসপাতালের কাজেও জায়গা করে নেবে।

