‘১৪ তলা থেকে হীরকরানিকে নামাতে পেরেছি’! মেয়ের খুনের সুবিচারে প্রত্যয়ী অভয়ার মা – এবেলা

‘১৪ তলা থেকে হীরকরানিকে নামাতে পেরেছি’! মেয়ের খুনের সুবিচারে প্রত্যয়ী অভয়ার মা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

মেয়ের অকালমৃত্যুর দুই বছর পেরোলেও ন্যায়বিচারের দীর্ঘ লড়াইয়ে অবিচল অভয়ার মা রত্না দেবনাথ। শনিবার কল্যাণী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে এক আবেগঘন বার্তায় তিনি স্পষ্ট জানান যে তাঁর এই আইনি ও সামাজিক লড়াই এতটুকুও দুর্বল হয়নি। জলহাটির বিধায়ক রত্নাদেবীর কথায়, “১৪ তলা থেকে হীরকরানিকে নামাতে পেরেছি।” এই দীর্ঘ সংগ্রামের পাশাপাশি তিনি বর্তমান সরকারের প্রতি পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেছেন এবং আশাবাদী যে তাঁর মেয়ের খুনের প্রকৃত কারণ খুব দ্রুত জনসমক্ষে আসবে।

পরিকাঠামো উন্নয়ন ও চিকিৎসকদের পাশে বার্তা

চিকিৎসায় কোনো সমস্যার জন্য ঢালাওভাবে কেবল চিকিৎসকদের কাঠগড়ায় তোলাকে সমর্থন করেন না অভয়ার মা। বরং তিনি চিকিৎসা ব্যবস্থার পরিকাঠামোগত ত্রুটি দূর করার দিকে জোর দিয়েছেন। তাঁর স্পষ্ট দাবি, চিকিৎসকদের সঠিকভাবে কাজ করার জন্য হাসপাতালগুলিতে পর্যাপ্ত সরঞ্জাম ও উপযুক্ত পরিবেশ প্রয়োজন। মেয়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি জানান, তাঁর মেয়ে রোগীদের প্রতি এতটাই কর্তব্যপরায়ণ ছিলেন যে, হাসপাতালে প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাব থাকলে বাড়ি থেকেই তা নিয়ে যেতেন। কল্যাণী মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি জানান, তাঁরা তাঁর মেয়েকে এমন একজন মানবিক চিকিৎসক হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন, যিনি রোগীর কষ্ট অনুভব করে পাশে বসে কাঁদতেও পারতেন।

নিরাপত্তার দাবি ও সম্ভাব্য প্রভাব

এই মর্মান্তিক ঘটনার জেরে একদিকে যেমন চিকিৎসা পরিকাঠামোর অপ্রতুলতা জনসমক্ষে উঠে এসেছে, তেমনই চিকিৎসকদের কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তার বিষয়টিও বড় আকার ধারণ করেছে। রত্নাদেবীর এই প্রতিবাদের মূল লক্ষ্য কেবল নিজের মেয়ের জন্য বিচার পাওয়া নয়, বরং সমগ্র ব্যবস্থার এমন একটি বদল আনা যাতে ভবিষ্যতে আর কোনও অনভিপ্রেত ঘটনা না ঘটে। “আমার মেয়ের মতো যেন আর কোনও মায়ের কোল খালি না হয়”—তাঁর এই আর্তি আগামী দিনে চিকিৎসা ক্ষেত্রে পরিকাঠামোগত সংস্কার এবং চিকিৎসকদের জন্য একটি সুরক্ষিত কর্মপরিবেশ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *