১৪ বছর পর কলকাতায় মার্কিন বিদেশসচিব! শুভেন্দু-মমতার ডুয়েলের মাঝেই মাদার হাউসে মার্কো রুবিও

শিয়ালদহ রোজগার মেলায় ৫১ হাজার যুবকের মেগা নিয়োগ এবং দক্ষিণ দমদমে তৃণমূল কাউন্সিলরের রহস্যমৃত্যুর উত্তেজনার মাঝেই, বাংলার বুকে এক ঐতিহাসিক কূটনৈতিক মুহূর্ত তৈরি হলো। দীর্ঘ ১৪ বছর পর আমেরিকার কোনো বিদেশসচিব পা রাখলেন তিলোত্তমায়। শনিবার, ২৩ মে ২০২৬ সকালে কলকাতায় এসে পৌঁছান মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিও। এর আগে ২০১২ সালের মে মাসে তত্কালীন মার্কিন বিদেশসচিব হিলারি ক্লিন্টন কলকাতায় এসেছিলেন। কাকতালীয়ভাবে, হিলারির সেই সফরের ১৪ বছর পর মার্কিন প্রশাসনের এই শীর্ষ কূটনীতিবিদের কলকাতা আগমন এমন এক সময়ে হলো, যার মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেই বিধানসভা নির্বাচনে নজিরবিহীন জয় হাসিল করে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি-র নতুন সরকার।
মাদার হাউসে শ্রদ্ধা নিবেদন, তবে মুখ্যমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ অধরা
শনিবার সকালে কলকাতা বিমান বন্দরে নামার পর মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিওকে স্বাগত জানান ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গর। এর পরেই রুবিও সরাসরি চলে যান সেন্ট্রাল কলকাতার মাদার হাউসে। সেখানে মিশনারিজ অফ চ্যারিটি-র সদর দফতরে গিয়ে সন্ত মাদার তেরেসার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তিনি। চ্যারিটির সিস্টারদের সাথে কথা বলার পাশাপাশি সেখানকার চিলড্রেনস হোমও ঘুরে দেখেন তিনি। আমেরিকার বিদেশ দপ্তরের পক্ষ থেকে এই সংক্ষিপ্ত সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং দুই দেশের সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক মেলবন্ধনের প্রতীক হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে।
তবে রাজনৈতিক মহলে যে বিষয়টি নিয়ে সবচেয়ে বেশি জল্পনা চলছিল, সেই জট কাটেনি। ২০১২ সালে হিলারি ক্লিন্টন রাইটার্স বিল্ডিংসে এসে তত্কালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করলেও, বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে মার্কো রুবিওর কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বা সৌজন্যমূলক সাক্ষাতের কর্মসূচি এই সংক্ষিপ্ত সফরে ছিল না। ৮ ঘণ্টার এই ঝটিকা সফর শেষ করে বিকেলের আগেই দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা দেন তিনি।
দিল্লিতে মোদীর সাথে মেগা বৈঠক, নজরে কোয়াড ও জ্বালানি চুক্তি
কলকাতার সফরসূচি শেষ করে নয়া দিল্লিতে পৌঁছেই দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সাথে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসার কথা রয়েছে মার্কিন বিদেশসচিবের। আগামী ২৬ মে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে চলা ‘কোয়াড’ (QUAD) ভুক্ত দেশগুলির বিদেশমন্ত্রীদের মেগা বৈঠকের প্রধান সেনাপতি হিসেবেই মার্কো রুবিওর এই ৪ দিনের ভারত সফর (২৩-২৬ মে)।
ভারত-আমেরিকা সম্পর্কের এই নতুন ধাপে যে সমস্ত বিষয়ে বড়সড় চুক্তি হতে চলেছে:
- জ্বালানি নিরাপত্তা (Energy Security): হরমুজ প্রণালীর অস্থিরতার জেরে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ায় ভারতকে রেকর্ড পরিমাণ মার্কিন জ্বালানি ও গ্যাস রফতানি করতে আগ্রহী ওয়াশিংটন।
- প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তি (Defence & Tech): দুই দেশের মধ্যে উন্নত প্রযুক্তি আদানপ্রদান এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়ে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন রুবিও।
একদিকে যখন ভাটপাড়া-হালিশহরে পুরবোর্ড রক্ষা করতে কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলীয় কাউন্সিলরদের ‘মাটি কামড়ে’ পড়ে থাকার নির্দেশ দিচ্ছেন এবং অন্যদিকে উত্তরবঙ্গে দার্জিলিং-কোচবিহারে ভারী বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা জারি করেছে হাওয়া অফিস— সেই চেনা রাজনৈতিক ও প্রাকৃতিক ডামাডোলের সমান্তরালে কলকাতার মাটি ছুঁয়ে মার্কিন বিদেশসচিবের এই মেগা ভারত সফর আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে দিল্লির পাশাপাশি নবান্নের গুরুত্বকেও বিশ্বমঞ্চে এক নতুন মাত্রায় পৌঁছে দিল।
