১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সীদের শরীরে থাবা বসাচ্ছে ‘নীরব ঘাতক’, সাবধান না হলেই বড় বিপদ – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
বিশ্বজুড়ে বর্তমানে এক ভয়ংকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে যেখানে স্কুলপড়ুয়া থেকে শুরু করে ২০-৩০ বছর বয়সী পেশাদাররা আক্রান্ত হচ্ছেন উচ্চ রক্তচাপে। একসময় যা কেবল বয়স্কদের রোগ হিসেবে পরিচিত ছিল, তা এখন তরুণ প্রজন্মের বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, এই রোগটি আসলে একটি ‘নীরব ঘাতক’ কারণ অধিকাংশ ক্ষেত্রে এর কোনো নির্দিষ্ট লক্ষণ বাইরে থেকে বোঝা যায় না।
কেন বাড়ছে এই ঝুঁকি
বিশেষজ্ঞদের মতে, আজকের দ্রুতগতির জীবনযাত্রাই এই সমস্যার মূল উৎস। দীর্ঘক্ষণ কাজ, অপর্যাপ্ত ঘুম, অতিরিক্ত জাঙ্ক ফুড এবং শারীরিক পরিশ্রমের অভাব সরাসরি হৃদ্যন্ত্রের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এছাড়া মানসিক চাপ ও উদ্বেগের কারণে শরীরে স্ট্রেস হরমোন বেড়ে গিয়ে রক্তনালী সংকুচিত করে দিচ্ছে, যার ফলে রক্তচাপ দ্রুত বৃদ্ধি পায়। ধূমপান, মদ্যপান এবং স্থূলতাও এই ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।
চিনে নিন লুকিয়ে থাকা উপসর্গগুলো
উচ্চ রক্তচাপকে নীরব ঘাতক বলা হলেও শরীরের কিছু সংকেত এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়। যেমন:
- সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর তীব্র মাথাব্যথা।
- দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হয়ে আসা।
- অস্বাভাবিক ক্লান্তি ও মানসিক অস্থিরতা।
- হুটহাট নাক দিয়ে রক্ত পড়া।
এই লক্ষণগুলো অবহেলা করলে ভবিষ্যতে হৃদরোগ, স্ট্রোক, কিডনির সমস্যা এমনকি মস্তিষ্কের স্থায়ী ক্ষতি হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা থাকে।
সুরক্ষার সহজ উপায়
চিকিৎসকদের মতে, সামান্য কিছু জীবনযাত্রার পরিবর্তনই এই মারণ রোগ থেকে মুক্তি দিতে পারে। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় লবণের পরিমাণ কমিয়ে বেশি করে ফল ও শাকসবজি রাখা জরুরি। সপ্তাহে অন্তত পাঁচ দিন আধঘণ্টা করে শরীরচর্চা বা যোগব্যায়াম করলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে। এছাড়া পর্যাপ্ত ঘুম এবং ধূমপান বর্জন করা একান্ত প্রয়োজন। ১৮ বছর বয়সের পর থেকে বছরে অন্তত একবার রক্তচাপ পরীক্ষা করানোই হতে পারে দীর্ঘায়ু হওয়ার সেরা দাওয়াই।

