২টি ফুটবল মাঠের সমান চওড়া গর্ত! চাঁদের বুকে তৈরি হলো ‘ম্যাকগেচিন ক্রেটার’ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
September 18, 20268:08 am
চাঁদের বুকে তৈরি হয়েছে এক বিশাল গর্ত। নাসা-র (NASA) চন্দ্রযান ‘লুনার রিকনসেন্স অরবিটার’ (LRO)-এর তোলা নতুন ও পুরনো ছবি তুলনা করতে গিয়ে ধরা পড়েছে এই চমকপ্রদ তথ্য। মহাজাগতিক সংঘর্ষের ফলে তৈরি হওয়া এই বিরল গর্তটির নামকরণ করা হয়েছে ‘ম্যাকগেচিন ক্রেটার’ (McGetchin Crater)।
গর্তটির আকৃতি ও বৈশিষ্ট্য:
- দৈর্ঘ্য ও বিস্তার: গর্তটি প্রায় ৭২৮ ফুট (২২২ মিটার) চওড়া, যা অন্তত দু’টি ফুটবল মাঠের সমান।
- গভীরতা: এর গভীরতা ১৪১ ফুট (৪৩ মিটার)। সহজ কথায়, তিনটি স্কুল বাসকে একটির ওপর আরেকটি রাখলে যে উচ্চতা হয়, গর্তটি ততটাই গভীর।
- ঘটনার সময়কাল: ২০২৪ সালের ১১ এপ্রিল থেকে ২২ মে-র মধ্যে কোনো এক সময় ৩ থেকে ৬ তলা ভবনের সমান আকারের একটি ধূমকেতু বা গ্রহাণুর টুকরো প্রচণ্ড গতিতে চাঁদের পৃষ্ঠে আছড়ে পড়ে।
কীভাবে আবিষ্কার হলো? ২০২৫ সালের ২৪ অক্টোবর নাসার বিজ্ঞানী রবার্ট ওয়াগনার LRO-র পাঠানো ডেটা পরীক্ষা করার সময় চাঁদের মাটিতে একটি অস্বাভাবিক উজ্জ্বল দাগ ও তার চারপাশে গাঢ় বলয় দেখতে পান। পরবর্তীকালে ন্যারো-অ্যাঙ্গেল ক্যামেরার বিস্তারিত ছবিতে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, এটি সৌরজগতের সাম্প্রতিক ইতিহাসে শনাক্ত হওয়া অন্যতম বৃহৎ নতুন প্রভাব-গর্ত (Impact Crater)।
কেন এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ? মহাকাশ বিজ্ঞানীদের মতে, এত বড় আকারের নতুন গর্ত তৈরি হওয়ার ঘটনা ঘটে গড়ে অন্তত ১০০ বছরে মাত্র একবার। বিশিষ্ট চন্দ্রবিজ্ঞানী থমাস ম্যাকগেচিনের সম্মানে নামাঙ্কিত এই গর্তটি শুধু একটি ভৌগোলিক পরিবর্তন নয়, বরং গবেষণায় দেখা গেছে যে এই আঘাতের ফলে এর চারপাশের ৪ মাইল এলাকায় রাতের তাপমাত্রা প্রায় ১৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট কমে গেছে। অর্থাৎ, একটি মাত্র সংঘর্ষ চাঁদের মাটি ও তার তাপীয় বৈশিষ্ট্যে কী ধরনের স্থায়ী পরিবর্তন আনতে পারে, তা এখন স্পষ্টভাবে বোঝা যাচ্ছে।
