২০০ ডলারের পথে অপরিশোধিত তেল? ইরান যুদ্ধে হুতিদের এন্ট্রিতে বিশ্ববাজারে মহাপ্রলয় – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে এবার নতুন সমীকরণ। ইরান ও আমেরিকার রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাঝে হুতি বিদ্রোহীদের আকস্মিক প্রবেশে দাউদাউ করে জ্বলছে বিশ্ব তেলের বাজার। গত এক মাসেই অপরিশোধিত তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়ে ডবল বা দ্বিগুণে পৌঁছেছে। সোমবার সকালে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ১১৬ ডলারের গণ্ডি ছাড়িয়ে যাওয়ায় সিঁদুরে মেঘ দেখছে ভারতসহ আমদানিকারক দেশগুলো।
কেন অশান্ত তেলের বাজার
স্ট্রেট অফ হরমুজ অবরুদ্ধ হওয়ার পর থেকেই বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহের চেইন কার্যত ভেঙে পড়েছে। এর মধ্যেই ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে হুতিদের নিশানায় এখন লোহিত সাগর এবং বাব-আল-মানদেব প্রণালী। এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথগুলো যদি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় তবে বিশ্বজুড়ে তেলের সরবরাহ স্তব্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
লক্ষ্যবস্তু যখন সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর
হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় বর্তমানে বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর। তবে ব্লুমবার্গের রিপোর্ট অনুযায়ী হুতিদের পরবর্তী টার্গেট হতে পারে এই বন্দরটিই। যদি ইয়ানবু বন্দরের ওপর হামলা হয় তবে বিশ্ববাজারে তেলের হাহাকার কয়েক গুণ বেড়ে যাবে। গ্লোবাল ফিন্যান্সিয়াল ফার্ম ম্যাককুয়ারি (Macquarie) এক চরম সতর্কবার্তায় জানিয়েছে যে এই যুদ্ধ যদি দীর্ঘস্থায়ী হয় তবে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে ২০০ ডলারও ছাড়িয়ে যেতে পারে।
ভারতের জন্য বড় বিপদ
আমদানিকৃত তেলের ওপর নির্ভরশীল ভারতের অর্থনীতিতে এই অগ্নিমূল্য সরাসরি প্রভাব ফেলবে। তেলের দাম বাড়লে পরিবহন খরচ বৃদ্ধি পাবে যা সরাসরি সাধারণ মানুষের পকেটে টান ফেলবে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের মূল্যবৃদ্ধির গ্রাফকে আরও ঊর্ধ্বমুখী করবে। জুন ২০২৬ পর্যন্ত যদি এই অস্থিরতা জারি থাকে তবে বিশ্ব অর্থনীতি এক গভীর সংকটের মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

