২০২৬ নির্বাচনের আগে উত্তপ্ত বাংলা! মমতাকে কেন কট্টর হিন্দু বিরোধী তকমা দিলেন শুভেন্দু? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজার সাথে সাথেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বাংলার রাজনৈতিক ময়দান। শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সরাসরি ‘হিন্দু বিরোধী’ তকমা দিয়ে আক্রমণ শানিয়েছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। নন্দীগ্রামের এই হেভিওয়েট বিধায়ক দাবি করেছেন, গত ১৫ বছরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনকাল শুধুমাত্র সাম্প্রদায়িক তোষণ আর বিভাজনের রাজনীতি ছাড়া বাংলাকে আর কিছুই উপহার দেয়নি। অযোধ্যার রাম মন্দির থেকে শুরু করে কুম্ভ মেলা— একের পর এক ইস্যুতে মুখ্যমন্ত্রীর অবস্থানকে কাঠগড়ায় তুলেছেন তিনি।
সনাতন ধর্ম ও মন্দির ইস্যুতে কড়া তোপ
শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগের মূল ভিত্তি হলো মহাকুম্ভ এবং রাম মন্দির নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্য। বিরোধী দলনেতার দাবি, বিধানসভায় মহাকুম্ভ নিয়ে মমতার বক্তব্য হিন্দু সমাজকে সরাসরি অপমান করার শামিল। রাম মন্দির উদ্বোধনের দিনে গোটা দেশ যখন উৎসবে মেতেছিল, তখন মুখ্যমন্ত্রীর আপত্তির বিষয়টিও তিনি জনসভায় পুনরায় স্মরণ করিয়ে দেন। এর পাশাপাশি রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে মন্দির ও মূর্তি ভাঙচুর এবং মুর্শিদাবাদের ওয়াকফ আইন সংক্রান্ত বিতর্কে প্রশাসনের তথাকথিত ‘নিষ্ক্রিয়তা’ নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন শুভেন্দু।
সিএএ বিতর্ক ও নির্বাচনী সমীকরণ
নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বা সিএএ নিয়ে রাজ্য সরকারের অবস্থানকেও কড়া ভাষায় সমালোচনা করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর মতে, সিএএ-কে এনআরসি হিসেবে প্রচার করে সাধারণ মানুষের মধ্যে অহেতুক আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়েছে। তিনি সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেন যে, সিএএ-র কারণে এ রাজ্যে একজনকেও ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানো হয়নি। অন্যদিকে, রাজনৈতিক এই মেরুকরণের আবহে বিজেপি এবার ১৭০টির বেশি আসন নিয়ে নবান্ন দখলের বিষয়ে পূর্ণ আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছে।
তৃণমূল কংগ্রেস অবশ্য এই সমস্ত অভিযোগকে গুরুত্ব দিতে নারাজ। শাসকদলের মতে, নির্বাচনে পরাজয় নিশ্চিত বুঝেই বিজেপি উন্নয়নের পথ ছেড়ে সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের পথে হাঁটছে। ভোটের আগে এই পাল্টাপাল্টি অভিযোগের আবহ ২০২৬-এর নির্বাচনী লড়াইকে যে আরও তীব্র করবে, তা এখন স্পষ্ট।
এক ঝলকে
- ২০২৬ নির্বাচনের মুখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তীব্র ‘হিন্দু বিরোধী’ তোপ দাগলেন শুভেন্দু অধিকারী।
- মহাকুম্ভ এবং রাম মন্দির ইস্যুতে মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকার কড়া সমালোচনা ও তোষণের রাজনীতির অভিযোগ।
- সিএএ নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগে তৃণমূলকে বিঁধে এবার ১৭০-এর বেশি আসন জয়ের দাবি বিজেপির।
- ধর্মীয় মেরুকরণ ও প্রশাসনিক ব্যর্থতাকে হাতিয়ার করে পরিবর্তনের ডাক বিরোধী শিবিরের।
