২০২৬ নির্বাচনের আগে বঙ্গে বড় ধামাকা! হাই কোর্টের নির্দেশে বিজেপির পরিবর্তন যাত্রায় মিলল সবুজ সংকেত – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
নিউজ ডেস্ক: ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে কোমর বেঁধে ময়দানে নামছে ভারতীয় জনতা পার্টি। রাজ্যে বড়সড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের ডাক দিয়ে বিজেপি যে ‘পরিবর্তন যাত্রা’র পরিকল্পনা করেছিল, তাতে এবার সিলমোহর দিল কলকাতা হাই কোর্ট। তবে আদালতের পক্ষ থেকে এই যাত্রার ওপর বেশ কিছু কঠোর শর্ত আরোপ করা হয়েছে, যা রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
আইনি লড়াই ও আদালতের রায়
বিজেপি নেতৃত্ব আগামী ১ থেকে ৩ মার্চ পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে এই জনসম্পর্ক অভিযান চালানোর জন্য প্রশাসনের কাছে অনুমতি চেয়েছিল। দীর্ঘ সময় ধরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো সদুত্তর না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হয় গেরুয়া শিবির। মামলার শুনানি শেষে বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের একক বেঞ্চ ১ এবং ২ মার্চ এই যাত্রার অনুমতি দিলেও ৩ মার্চের আবেদনটি খারিজ করে দিয়েছেন।
আদালতের দেওয়া বিশেষ শর্তাবলী
হাই কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করা গণতান্ত্রিক অধিকার হলেও সাধারণ মানুষের জনজীবন ব্যাহত করা চলবে না। আদালতের প্রধান শর্তগুলো হলো:
- পরিবর্তন যাত্রা শুধুমাত্র দুপুর ২টো থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে।
- কোনো নির্দিষ্ট স্থানে জমায়েত ১,০০০ জনের বেশি হওয়া চলবে না।
- আইন-শৃঙ্খলার দায়িত্ব থাকবে স্থানীয় পুলিশের ওপর এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াতে যাতে কোনো বিঘ্ন না ঘটে সেদিকে কড়া নজর রাখতে হবে।
বিজেপির মেগা পরিকল্পনা ও ভিআইপি উপস্থিতি
রাজ্যজুড়ে মোট ৯টি ‘পরিবর্তন রথ’ বের করার ছক কষেছে বিজেপি। প্রায় ৫,০০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে পৌঁছানোর লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। দলীয় সূত্রে খবর, আগামী ২ মার্চ রায়দিঘিতে এই কর্মসূচিতে যোগ দিতে পারেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এছাড়া জেপি নাড্ডাসহ কেন্দ্রীয় স্তরের একাধিক শীর্ষ নেতার এই মেগা অভিযানে শামিল হওয়ার কথা রয়েছে। অভিযানের শেষে কলকাতার ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর একটি বিশাল জনসভা করারও প্রাথমিক পরিকল্পনা রয়েছে দলের।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে আশানুরূপ ফল না পেলেও, ২০২৬-এর আগে তৃণমূল কংগ্রেসের দুর্গে ফাটল ধরাতে মরিয়া বিজেপি। ‘পরিবর্তন’ স্লোগানকে সামনে রেখে গ্রাম বাংলার মানুষের কাছে পৌঁছাতে চাইছে তারা। অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শাসক দলও নিজেদের জমি ধরে রাখতে তৎপর। হাই কোর্টের এই নির্দেশের পর বঙ্গ রাজনীতিতে উত্তাপ যে কয়েক গুণ বেড়ে গেল, তা বলাই বাহুল্য।

