২০৪৭ সালের লক্ষ্যভেদে মোদীর রিফর্ম এক্সপ্রেস কি এবার আরও গতি পাবে – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
ভারতের প্রশাসনিক কাঠামোয় আমূল পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে এক বড় পদক্ষেপ নিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে দেশকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে নিজের মন্ত্রিসভার সদস্যদের কড়া নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা, প্রতিটি মন্ত্রণালয়কে তাদের আগামী কয়েক বছরের সংস্কারমূলক কাজের একটি বিস্তারিত খসড়া বা ‘রোডম্যাপ’ দ্রুত প্রস্তুত করতে হবে। এই বিশেষ উদ্যোগটি সরকারের ‘রিফর্ম এক্সপ্রেস’ কর্মসূচিরই একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমিয়ে প্রযুক্তিতে জোর
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, এই সংস্কারের মূল লক্ষ্য হলো প্রশাসনিক প্রক্রিয়াগুলোকে আরও সহজতর করা। বিশেষ করে ব্যবসা-বাণিজ্যের পথ মসৃণ করা বা ‘ইজ অফ ডুইং বিজনেস’-এর মান উন্নয়ন এবং শাসন ব্যবস্থায় প্রযুক্তির ব্যবহার বহুগুণ বাড়িয়ে তোলা। প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রীদের নির্দেশ দিয়েছেন যাতে তারা নিজেরাই এই সংস্কারের নোট বা খসড়া তৈরি করেন এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে তা সশরীরে উপস্থাপন করে নিজেদের মন্ত্রণালয়ের ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন।
নির্দিষ্ট ফরম্যাটে দিতে হবে সাফল্যের খতিয়ান
মন্ত্রিপরিষদ সচিবালয় থেকে ইতিমধ্যেই একটি নির্দিষ্ট ফরম্যাট বা নির্দেশিকা সমস্ত মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সেখানে প্রতিটি দপ্তরকে গত কয়েক বছরের উল্লেখযোগ্য সাফল্য যেমন জানাতে হবে, ঠিক তেমনি ভবিষ্যতে কী কী নতুন সংস্কার আনা হচ্ছে তারও পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ দিতে হবে। এই সংস্কারগুলো ঠিক কবে কার্যকর হবে এবং তার ফলে সাধারণ মানুষের জীবনে বা দেশের অর্থনীতিতে কী প্রভাব পড়বে, তার একটি স্বচ্ছ ধারণা ওই প্রতিবেদনে থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
উন্নত ভারতের স্বপ্ন এবং ২০৪৭ এর রোডম্যাপ
২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে একটি ‘উন্নত রাষ্ট্র’ হিসেবে গড়ে তোলার যে লক্ষ্যমাত্রা প্রধানমন্ত্রী নির্ধারণ করেছেন, এই সামগ্রিক প্রক্রিয়াটি তারই একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। প্রধানমন্ত্রী মনে করেন, সংস্কারের সুফল যেন কেবল নথিপত্রে সীমাবদ্ধ না থেকে একদম তৃণমূল স্তরের মানুষের কাছে পৌঁছায়। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারেও তিনি জানিয়েছিলেন যে, তাঁর সরকারের ‘রিফর্ম এক্সপ্রেস’ সাধারণ নাগরিকদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখছে।
শিল্প ও শিক্ষা জগতের সঙ্গে সমন্বয়
বাজেট পরবর্তী এক ওয়েবিনারে প্রধানমন্ত্রী দেশের প্রযুক্তি, সংস্কার এবং অর্থব্যবস্থাকে চাঙ্গা করতে সরকার, শিল্পমহল এবং শিক্ষা জগতের মধ্যে একটি শক্তিশালী ‘সংস্কার অংশীদারিত্ব চার্টার’ বা ‘রিফর্ম পার্টনারশিপ চার্টার’ তৈরির পরামর্শ দিয়েছেন। এর ফলে সরকারি নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞরা যেমন সাহায্য করতে পারবেন, তেমনি শিল্পের প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী দেশি সংস্কার আনা সম্ভব হবে। সব মিলিয়ে, মোদী সরকারের এই নতুন তৎপরতা আগামী দশকে ভারতের উন্নয়নের গতিপথ কোন দিকে যাবে, তার একটি শক্তিশালী ইঙ্গিত দিচ্ছে।

