২৪ ঘণ্টা আগেই সিজিও কমপ্লেক্সে সাধন-কন্যা শ্রেয়া পাণ্ডে, সোনা পাপ্পু মামলায় বাড়ছে চাঞ্চল্য – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
নির্ধারিত সময়ের ২৪ ঘণ্টা আগেই আচমকা সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) মুখোমুখি হলেন মানিকতলার পরাজিত তৃণমূল প্রার্থী তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী প্রয়াত সাধন পাণ্ডের কন্যা শ্রেয়া পাণ্ডে। কুখ্যাত ব্যবসায়ী বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে ‘সোনা পাপ্পু’-র বেআইনি আর্থিক লেনদেন মামলার তদন্তে শ্রেয়াকে মঙ্গলবার তলব করা হয়েছিল। কিন্তু সবাইকে চমকে দিয়ে সোমবার সকালেই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দফতরে পৌঁছে যান এই তৃণমূল নেত্রী। জাল নথির মাধ্যমে সরকারি ও বেসরকারি জমি দখল এবং অবৈধ নির্মাণের মামলায় তাঁর ভূমিকা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
বিদেশি অস্ত্র ও কোটি কোটি টাকার লেনদেনের সূত্র
তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণ কলকাতার বিতর্কিত ব্যবসায়ী সোনা পাপ্পুর সূত্র ধরে গত এপ্রিল মাসেই কলকাতার দুই প্রান্তে জোড়া অভিযান চালায় ইডি। বেহালার প্রোমোটার জয় কামদারের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে কোটি কোটি টাকার সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের হদিস মেলে। তদন্তে জানা যায়, সোনা পাপ্পুর স্ত্রীর নামে থাকা একটি সংস্থার সঙ্গে জয়ের কো ম্পা নির সরাসরি প্রায় দেড় কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। শুধু তাই নয়, সোনা পাপ্পুর বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া একটি বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্রও জয় কামদারের সংস্থার কাছ থেকেই কেনা হয়েছিল বলে জানতে পেরেছেন গোয়েন্দারা। এই মামলার সূত্র ধরেই এবার সাধন-কন্যাকে জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনা হলো।
তদন্তের গতিপ্রকৃতি ও সম্ভাব্য প্রভাব
মূলত এই বিপুল পরিমাণ অর্থের উৎস এবং এর পেছনে কোনো বড়সড় প্রোমোটিং ও জমি দখলের সিন্ডিকেট রাজ কাজ করছে কি না, তা উদঘাটন করতেই শ্রেয়া পাণ্ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের মতে, এই মামলার জল অনেক দূর গড়াতে পারে। সোনা পাপ্পু ও জয় কামদারের সিন্ডিকেট চক্রের সাথে প্রভাবশালী যোগসূত্র এবং বেআইনি আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ মিললে আগামী দিনে কলকাতার রিয়েল এস্টেট ব্যবসা ও রাজনৈতিক মহলে বড়সড় ঝাঁকুনি আসতে পারে। শ্রেয়ার এই আগাম হাজিরা তদন্তের প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত ও জোরালো করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
